শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘মহেশ’ নিয়ে পাঠের আসর

জামালপুর বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘মহেশ’ নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে জামালপুর বন্ধুসভা। ২৪ জুলাই রাতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘মহেশ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। গল্পটির প্রধান চরিত্র দরিদ্র মুসলমান কৃষক গফুর। ছোট মেয়ে আমিনা ও একমাত্র গরু মহেশকে নিয়ে তার ছোট সংসার। মহেশ শুধু একটি গরু নয়, গফুরের জীবিকার প্রধান অবলম্বন এবং পরিবারের সদস্যের মতোই প্রিয়।

দীর্ঘদিনের খরা, দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের কারণে গফুর চরম অর্থকষ্টে পড়ে। মাঠে ঘাস নেই, ঘরে খাবার নেই। ফলে মহেশকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারে না। অন্যদিকে জমিদার ও গ্রামের প্রভাবশালীরা গফুরের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখায় না; বরং তাকে অপমান ও নির্যাতন করে। মহেশ ক্ষুধার্ত হয়ে অন্যের ক্ষেতের ফসল খেলে গফুরকে আরও লাঞ্ছিত হতে হয়। নিজের অসহায়ত্ব, অভাব ও অপমানের ভার গফুরকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

একদিন চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের মুহূর্তে গফুর মহেশকে আঘাত করে। সেই আঘাতে মহেশ মারা যায়। নিজের সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গীর মৃত্যুর জন্য গফুর গভীরভাবে অনুতপ্ত হয়। সে বুঝতে পারে, প্রকৃত অপরাধী সে নয়; বরং দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য ও শোষণই তাকে এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শেষে গফুর তার মেয়ে আমিনাকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চটকলে কাজের সন্ধানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গল্পটি দরিদ্র মানুষের অসহায় জীবন, জমিদারি শোষণ, মানবিকতার সংকট এবং মানুষ ও প্রাণীর গভীর সম্পর্ককে অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরেছে। তাই ‘মহেশ’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাস্তবধর্মী ও মানবতাবাদী ছোটগল্প হিসেবে বিবেচিত।

পাঠচক্রে যুক্ত ছিলেন সভাপতি অন্তরা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল মাওয়া ও আমির হামজা, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নুসরাত শৈলীসহ অন্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা