জীবনানন্দের ‘মাল্যবান’ ঘিরে নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠচক্র
সম্পর্কের তুমুল কোলাহলের মধ্যেও মানুষের ভেতরের চরম একাকিত্ব কিংবা মধ্যবিত্ত জীবনের অনুচ্চারিত দীর্ঘশ্বাস—জীবনানন্দ দাসের ‘মাল্যবান’ উপন্যাস যেন ঠিক এই নিভৃত সত্যগুলোকেই সামনে নিয়ে আসে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে নোয়াখালী বন্ধুসভা।
সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদের সঞ্চালনায় মূল আলোচনায় উপন্যাসের গহিনে লুকিয়ে থাকা মনস্তাত্ত্বিক রূপ তুলে ধরেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাল্যবান’ কেবল একটি কৃত্রিম দাম্পত্য সম্পর্কের আখ্যান নয়, এটি আধুনিক মানুষের আত্মিক নিঃসঙ্গতার দলিল। মাল্যবান ও উৎপলার মধ্যকার মানসিক দূরত্ব ও শীতলতা জীবনানন্দ যেভাবে এঁকেছেন, তা আজকের যেকোনো সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবনের গভীরে থমকে থাকা শূন্যতাকেই মনে করিয়ে দেয়।
উপন্যাসের বাস্তবতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদা রেশমি বলেন, ‘গল্পের পটভূমিতে মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর সামাজিক মর্যাদার লড়াই সমান্তরালে চলেছে। সমাজের চোখে মাল্যবান অপদার্থ হলেও তার ভেতরে বাস করে এক সংবেদনশীল মন। স্ত্রীর অবহেলা আর সংসারের উদাসীনতাকে সঙ্গী করে মাল্যবানের বেঁচে থাকার আকুতি আমাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা বিষণ্ন সত্তাটাকেই স্পর্শ করে।’
জীবনানন্দের গদ্যশৈলী ও আধুনিকতা প্রসঙ্গে সভাপতি আসিফ আহমেদ বলেন, কবি জীবনানন্দের গদ্যের ধরনটাই আলাদা। ‘মাল্যবান’-এ তিনি অতি সাধারণ ভাষায় জীবনের কিছু কটু সত্য প্রকাশ করেছেন। বর্তমান ডিজিটাল যুগেও মানুষ যে ভিড়ের মধ্যে একা, তা এই উপন্যাস পাঠ করলে নতুন করে উপলব্ধি করা যায়।
কার্যনির্বাহী সদস্য রুমাইয়া সুলতানা বলেন, প্রচলিত রোমান্টিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে নর-নারীর সম্পর্কের মধ্যকার অপ্রেম, তিক্ততা ও আপসহীন বাস্তবতাকে লেখক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
এ ছাড়া পাঠচক্রে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সহসাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত শিহাব, অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ধ্রুব ভূঁইয়া, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজসহ অনেক।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা