প্রথম বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ের রচনা ‘মৃত্যুক্ষুধা’

এমসি কলেজ বন্ধুসভার পাঠচক্রছবি: বন্ধুসভা

‘মৃত্যুক্ষুধা’ কাজী নজরুল ইসলামের একটি কালজয়ী এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাম্যবাদী চেতনার উপন্যাস। এটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রচনা।

বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ের একটি রচনা। উপন্যাসটি শুরু হয় মূলত একটি দরিদ্র মুসলিম পরিবারের গল্প নিয়ে। যেখানে ফুটে উঠেছে দুঃখ-দারিদ্র্য, রোগ-শোক, ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ, যা তাদের গ্রাস করে রাখে সর্বক্ষণ। যাদের একদিকে মৃত্যু আর অন্যদিকে ক্ষুধা। যেখানে উপন্যাসের চরিত্ররা ক্ষুধার তাড়নায় ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে। ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য পরিবারের মেজ বউকে এক যুদ্ধরত নারীর জীবন বেছে নিতে হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামের এ উপন্যাসে যুদ্ধোত্তর সময়ের শ্রেণিবৈষম্য, অর্থসংকট ও নগরচেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

১ জুন বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে এমসি কলেজ বন্ধুসভা। সিলেটের এমসি কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়। বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেন কার্যকরী সদস্য সামিয়া আক্তার। তিনি বলেন, উপন্যাসে ক্ষুধা, দারিদ্র্যের মধ্যেও ছিল রোমান্টিকতার ছোঁয়া।

সেরা পাঠক বন্ধু পুরস্কার
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধু স্নেহা বলেন, উপন্যাসটি পড়লে তৎকালীন যুদ্ধপরবর্তী সময়ের ধারণা পাওয়া যায়।
সভাপতি সুমন মিয়া বলেন, উপন্যাসে ক্ষুধার তাড়নায় কেমন করে মানুষ ধর্মান্তরিত হতেও দ্বিধা বোধ করে না, কেমন করে মানুষ নিজের সন্তানের মৃত্যু কামনা করে, কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যুই তাদের কাছে ক্ষুধা হয়ে ওঠে; তা ফুটে উঠেছে।

পাঠচক্র শেষে সেরা তিন পাঠক বন্ধুকে পুরস্কৃত করা হয়। তাঁরা হলেন নাজনিন স্নেহা, সানজিদা রশিদ ও সামিয়া আক্তার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক লিমা তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক রুবেল ফারহিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক প্রজ্ঞা চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সানজিদা রশিদ, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আহমদ হাসান, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তাপস শীল, বন্ধু উবায়দুল হাসান, মুহিবুর রহমানসহ অন্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, এমসি কলেজ বন্ধুসভা