ঘুরতে যাওয়ার জন্য অনেক দিন ধরেই বন্ধুরা তাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু দূরে কোথাও গেলে সব নারী বন্ধুদের পাওয়া যাবে না। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম ভাসমান পেয়ারাবাগানে যাব। আমাদের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন সাতক্ষীরা, মোংলা, রাজবাড়ী ও নলছিটি বন্ধুসভার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন বন্ধু।
অবশেষে এসে যায় সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২৯ জুলাই শুক্রবার ভোর হতেই অতুর মাঝির খেয়াঘাটে এসে জড়ো হতে থাকেন বন্ধুরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে আসেন সাতক্ষীরা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন, মোংলা বন্ধুসভার সভাপতি আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ মহলদার, নলছিটি বন্ধুসভার সভাপতি সাথী আক্তার, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনসহ আরও কয়েকজন বন্ধু।
খেয়াঘাট থেকে সকাল আটটায় ট্রলারযোগে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। পেয়ারাবাগানের বিভিন্ন স্থান ঘোরাঘুরি শেষে ভীমরুলী গৌরব ইকোপার্কের সম্মুখে যাত্রাবিরতি করি। সেখানে দুপুরের খাওয়া শেষে সবাই মেতে ওঠেন আনন্দ উল্লাসে। কেউ খাচ্ছেন পেয়ারা, কেউ চড়ছেন পেয়ারাগাছে, কেউ দোলনায় দুলছেন, কেউবা আবার নেচে বেড়াচ্ছেন মিউজিকের তালে, কেউ আবার হারিয়ে যাচ্ছেন প্রকৃতির সবুজ আবরণে।
ইকোপার্কের ভেতর বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। নারীবন্ধুদের জন্য থাকে বালিশ খেলা। কিন্তু বালিশ না থাকায় বিকল্প হিসেবে ফুটবল দিয়ে এই খেলায় মেতে উঠেন সবাই। ছেলে বন্ধুদের জন্য ছিল চায়নিজ বারে বল নিক্ষেপ। এতে অংশগ্রহণ করেন সাবেক, বর্তমান সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টারাও। দিনের শুরুতে সবার জন্য রাখা হয় লটারি কুপন। তাতে ২০ জন বিজয়ী হন। খেলা শেষে বিকেলে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলার সীমান্তবর্তী স্থানে পেয়ারার ভাসমান বাজার ও পেয়ারাবাগান অবস্থিত। ভ্রমণে ঝালকাঠি বন্ধুসভা বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, ছবির হোসেন ও আফজাল হোসেন, সভাপতি আবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর ফয়সাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলামসহ অনেক বন্ধু।
সাধারণ সম্পাদক, ঝালকাঠি বন্ধুসভা