‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার মা আমাকে ঠেলে দিয়েছিল আমি তরুণ বলে। কারণ, তরুণেরাই আগামীর দেশ। তোমরা যারা ছোট নবীন, তোমরাও এক একজন যোদ্ধা; শুধু তা–ই নয়, তোমরাও একটা একটা নতুন বাংলাদেশ। তোমাদের কাছেই মুক্তিযুদ্ধ আজন্ম জীবিত থাকবে।’
ময়মনসিংহে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ফেরিওয়ালাখ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে ৩১ মার্চ নগরীর বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা।
বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার মতো নয়। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে এই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা আলী ইউসুফ বলেন, ‘ফিলিস্তিন আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য হলো ফিলিস্তিন স্বাধীন নয়, আমরা স্বাধীন। আমরা এই স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তরুণ প্রজন্মের অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিয়মিত চর্চা করা উচিত।’
ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরা।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিটের পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পাঁচজনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা ও তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। প্রথম হয়েছে মৌরিন জাহান, দ্বিতীয় সৈয়দা মাইমুনা, তৃতীয় সিদরাতুল মুনতাহা, চতুর্থ হুমাইরা জাহান ও পঞ্চম হয়েছে সিদরাতুল মুনতাহা খান।
অনুষ্ঠানে বন্ধুদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সাজিদ উল্লাহ, অর্থ সম্পাদক অনিক চন্দ্র, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াসিন আরিয়ান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুনমুন আহমেদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ফারদিন হাসান, বইমেলা সম্পাদক প্রিয়রঞ্জন, সাজ্জাদ হোসেন, দোলান, রাহিম, রুপা, রনি চন্দ্রসহ অন্য বন্ধুরা।
সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা