অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের অদম্য লড়াই ‘আরেক ফাল্গুন’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ইউসিতে শাবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রছবি: বন্ধুসভা

ভাষা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জহির রায়হান রচিত উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’। পটভূমি ভাষা আন্দোলন হলেও গল্পটা ১৯৫৫ সালের। ২৭ আগস্ট বইটি নিয়ে পাঠচক্র করেছে শাবিপ্রবি বন্ধুসভা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ইউসিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ইয়ারমিন আক্তারের সঞ্চালনায় বন্ধুরা বইটির আদ্যোপান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন।

উপন্যাসের কাহিনিতে দেখা যায়, ছাত্র-জনতার মধ্যে চাপা উত্তেজনা, শহীদদের লাশের গন্ধ তখনো আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি বাংলা, মূল্যায়িত হয়নি শহীদদের আত্মত্যাগ। বরং সরকারের দমন-পীড়ন নীতি জোরদার করা হয়েছে। স্বৈরাচারী শাসকের পদতলে পিষ্ট হয়েছে শহীদদের সম্মানে নির্মিত শহীদ মিনার।

সিপাহি বিদ্রোহের নির্মম স্মৃতিবিজড়িত ভিক্টোরিয়া পার্কের বর্ণনা দিয়ে ঔপন্যাসিক উপন্যাসের সূচনা করেন। এরপরই দেখা যায়, সাদা শার্ট-সাদা প্যান্ট পরা নগ্ন পায়ে একটি ছেলে নবাবপুরের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। এই ছেলেটি মুনীম, উপন্যাসের নায়ক। পৃষ্ঠা উল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকের দেখা মিলবে—সালমা, রেনু, বানু, নীলা, আসাদ, কবি রসুলসহ শত শত শিক্ষার্থী। সবারই নগ্ন পা। কিন্তু কেন?

ভাষাশহীদদের সম্মান জানানো আর রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে তাদের আন্দোলন। তিন দিন নগ্ন পায়ে চলা, রোজা রাখা আর কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে থাকে শান্তিপূর্ণ মিছিল। অন্যদিকে সরকার শহীদ দিবস পালন করতে দেবে না। মিছিল, মিটিং বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয় রাজপথের স্লোগান। কিন্তু ছাত্রসমাজ কি থেমে থাকবে?

পাঠচক্র শেষে শাবিপ্রবি বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

২১ ফেব্রুয়ারির আগের রাতে বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো সারা রাত জেগে রইল। ‘ভুলব না, ভুলব না একুশে ফেব্রুয়ারি’ স্লোগানে স্লোগানে মুখর হলগুলোর ছাদ। রাতেই মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে আক্রমণ করে পুলিশ, গ্রেপ্তার হয় অনেকে।

পরদিন সকালবেলা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শত শত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমায়েত হতে লাগল। উত্তোলন করা হলো কালো পতাকা। সেখানেও পুলিশের নগ্ন হামলা, গ্রেপ্তার। প্রিজন ভ্যানে উঠেও শিক্ষার্থীদের স্লোগান—‘বরকতের খুন ভুলব না, শহীদদের খুন ভুলব না’, ‘শহীদ স্মৃতি, অমর হোক’সহ নানা স্লোগান।

শেষের দৃশ্যপটটি দারুণভাবে উদ্বেলিত করে। যেখানে শত শত শিক্ষার্থীকে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। এদের সংখ্যা দেখে আর নাম ডাকতে ডাকতে বিরক্ত হয়ে উঠছে জেলার। তখন কেউ একজন বলে উঠল—‘এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব।’