ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’

ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।

আবহমান বাংলার জেলেদের জীবনভিত্তিক আঞ্চলিক উপন্যাস মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। বইটি নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা।

‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসটি বাংলাদেশের পদ্মাতীরবর্তী অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র। জেলে ও মাঝিদের দুঃসাহসিক জীবনযাত্রা এর উপজীব্য। হতদরিদ্র পদ্মার মাঝিদের জীবনসংগ্রামই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে লেখনীর মাধ্যমে। পদ্মার সঙ্গে জেলেদের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তবে সে সম্পর্কে নেই কোনো আনন্দ, নেই স্বপ্ন, নেই কোনো চাওয়া-পাওয়া; আছে সীমাহীন বেদনার ভার। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসটিতে তাঁর দুটি চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। একটি হচ্ছে তাঁর মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যটি লিবিডো।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে নায়ক কুবের মাঝি। তাকে কেন্দ্র করেই রূপায়িত হয়েছে কাহিনি। দরিদ্র মাঝি কুবেরের স্ত্রী মালা জন্ম থেকেই পঙ্গু। আর নায়িকা হচ্ছে কপিলা। কপিলা কুবেরের স্ত্রী মালার ছোট বোন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হোসেন মিয়া। সে এক রহস্যময় লোক। হঠাৎ করে সে বিত্তশালী হয়েছে। বিপদে সে দরিদ্র মাঝিদের সাহায্য করে, বিনা সুদের ঋণ দেয়। এককথায় সে মাঝিদের সেবক রূপে আবির্ভূত হয়। মূলত হোসেন মিয়া পদ্মা থেকে বহু দূরে ময়না দ্বীপে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করার জন্য অসহায় মাঝিদের পাঠাত। এক সময় কুবের হোসেন মিয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে সবকিছু রেখে কপিলাকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ি জমায় হোসেন মিয়ার সেই ময়না দ্বীপে।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরানের সঞ্চালনায় পাঠ আলোচনায় বন্ধুরা বলেন, বাংলা সাহিত্যে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের জনপ্রিয়তা অন্যতম শীর্ষে। উপন্যাসটি নিয়ে এখন পর্যন্ত দুইবার চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়েছে, যা বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। মূলত লেখক উপন্যাসের চরিত্র চিত্রনে দারুণ নান্দনিকতার পরিচয় দিয়েছেন, যা বাংলা সাহিত্যের রত্নভান্ডারে এক উজ্জ্বল রত্ন। বাংলার মানুষের সহজ জীবনের মসলিন বুননে সমৃদ্ধ এক জীবনগাথা ‘পদ্মা নদীর মাঝি’।

পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল, ম্যাগাজিন সম্পাদক ফারহান তানভীরসহ অন্যান্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা