‘বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি, চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’— পঙ্ক্তিটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতার মূল ভাব। আমাদের মানবসমাজ যদি এই ধারণাকে সব সময় লালন করত, তাহলে প্রতিবছর আলাদা করে আর নারী দিবস পালন করার প্রয়োজন হতো না। নারীরাও মানুষ, তাঁদের সম–অধিকার এবং সুরক্ষিতভাবে সমাজে বেঁচে থাকার ন্যায্যতা আছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী বন্ধুসভার সনাতনী ও বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হয়ে কথাগুলো বলেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক করবী রানী দাস। ‘সমতার পথে, যুক্তির লড়াই’ প্রতিপাদ্যে ৮ মার্চ বেলা ১১টায় জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘গ্রামবাংলার নারীর উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়’—এ বিষয়ে সনাতনী বিতর্কে অংশ নেয় নোয়াখালী সরকারি কলেজের দুটি বিতার্কিক দল। প্রতিযোগিতায় বিষয়ের পক্ষে থেকে জয়লাভ করে টিম সুফিয়া কামাল এবং বিজিত হয় বিপক্ষ দল টিম বেগম রোকেয়া।
টিম সুফিয়া কামালের বিতার্কিকেরা হলেন মুনেম তাহমিদ, সাবিহা ফয়েজ ও নাহিদুল ইসলাম। টিম বেগম রোকেয়ার বিতার্কিকেরা হলেন স্বরলিপি রায়, আদনান নূর ও তাহমিদ আল আবরার। বক্তাদের আলোচনায় গ্রামীণ ও শহরের নারীদের জীবনমান, চিকিৎসা, সেবা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নারী সহিংসতা ও অধিকার খর্ব করার কথা উঠে আসে।
বারোয়ারি বিতর্কের বিষয় ছিল ‘আমি যদি সমাজের আয়না হতাম...’। এ বিষয়েও তার্কিকেরা সুন্দর চমকপ্রদভাবে তাঁদের যুক্তি, তথ্য এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের পথ তুলে ধরেন।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদ। বিচারক হিসেবে ছিলেন করবী রানী দাস, বন্ধুসভা উপদেষ্টা লায়লা পারভীন ও সুমন নূর।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘নারীদের নারী হিসেবে না দেখে কর্মক্ষেত্রে কেবল সহকর্মী, কিংবা রাস্তায় পথযাত্রী না ভেবে যখন আমরা মানুষ হিসেবে বিবেচনা করব; কেবল তখনই সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে। সমাজে আর বৈষম্য, বিভেদ থাকবে না।’
উপদেষ্টা লায়লা পারভীন বলেন, ‘২০২৬ সালে এসেও নারীদের তাঁদের পোশাকের জন্য কথা শুনতে হয়, অপমানিত হতে হয়। কিন্তু তিন–চার বছরের বাচ্চা, যার কিনা শালীনতাটুকুও শেখার বোধ হয়নি, তাদেরও শিকার হতে হয় বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের নির্যাতনের। নারী দিবসকে আরও বেশি কার্যকর করে তুলতে পুরুষদের যেমন নারীদের সম্মান করতে হবে, নারীদেরও পুরুষের প্রতি সহনশীল হতে হবে; তবেই এই দিবসগুলোর প্রকৃত স্বার্থকতা হবে।’
উপদেষ্টা মাহফুজের রহমান বলেন, ‘পরমতসহিষ্ণুতা, শ্রদ্ধাশীল এবং পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ যত দিন না জাগ্রত হবে, তত দিন আমাদের সমাজে এই সহিংসতা ও অন্যায়গুলো চলতেই থাকবে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বন্ধুসভার সভাপতি আসিফ আহমেদ, সহসভাপতি মো. শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদা রেশমি, অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, ম্যাগাজিন সম্পাদক বুশরা করিম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজ, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক সৌভিক দাস, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমাইয়া সুলতানা, বন্ধু আনিকা আমিনসহ অনেকে।
সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা