প্রকৃতির সান্নিধ্য মানুষকে নতুন করে শ্বাস নিতে শেখায়। কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ঝরে পড়ে সবুজের ছায়ায়, আর সাফল্যের আনন্দ সেখানে পায় আরও গভীর অর্থ। কাজের স্বীকৃতি যখন উদ্যাপনের রূপ নেয়, তখন সেই উৎসব হয়ে ওঠে আগামী দিনের প্রেরণা। এমনই ভাবনা থেকে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আনন্দভ্রমণের আয়োজন করেছে সিলেট বন্ধুসভা।
‘সবুজে সাফল্যের গান’ শিরোনামে ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই আনন্দভ্রমণের গন্তব্য ছিল সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগান। ২০২৫ সালে সিলেট বন্ধুসভা তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করে। সেই সাফল্য উদ্যাপন এবং দীর্ঘদিনের কাজের পর কিছুটা প্রশান্তি খুঁজে নিতেই এই ভ্রমণের আয়োজন।
সকাল থেকেই শহরজুড়ে কনকনে ঠান্ডা। ঘন কুয়াশায় ঢাকা পুরো সিলেট যেন শীতের চাদরে মোড়া। সেই শীত উপেক্ষা করেই বেলা ১১টায় বন্ধুরা একত্র হন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সেখানে এক দফা চা ও আড্ডার পর সবাই রওনা দেন মূল গন্তব্যের উদ্দেশে।
সবুজে ঘেরা লাক্কাতুরা চা-বাগানের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বন্ধুরা পৌঁছে যান ‘সেঁজুতির মা’-এর দোকানে। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর শুরু হয় বাগানের ভেতর আনন্দঘন সময়। প্রকৃতির মাঝে মুক্ত বাতাসে প্রাণখোলা হাসি, গান আর নাচে মেতে ওঠেন সবাই। ‘এমন যদি হতো আমি পাখির মতো’ গানের সঙ্গে সম্মিলিত নাচের ভিডিও ধারণ করা হয়, যা মুহূর্তেই আনন্দকে আরও রঙিন করে তোলে।
বেলা দুইটার দিকে সবাই আবার ফিরে আসেন ‘সেঁজুতির মা’-এর দোকানে। শুরু হয় চায়ের সঙ্গে গানের আড্ডা। বন্ধুদের কণ্ঠের সুরে পুরো চা-বাগান যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় মজার খেলা ‘ট্রুথ অর ডেয়ার’। মিমিক্রি, র্যাম্প ওয়াক, অভিনয়, হাস্যরসাত্মক গল্পসহ নানা রকম ডেয়ারে জমে ওঠে পুরো আসর। পরে সবাই মিলে উনো খেলায় অংশ নেন।
দিনজুড়ে বন্ধুদের কোলাহল, হাসি আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত ছিল লাক্কাতুরা চা-বাগান। সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে সবাই আবার শহরের পথে রওনা দেন। বাগানের ভেতর দিয়ে ফেরার সময় সবার মুখেই ছিল প্রশান্তির হাসি ও তৃপ্তির ছাপ।
বন্ধু সৌম্য বলেন, ‘বছরজুড়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করি, আর তার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পাই। সেই সাফল্যের আনন্দ উদ্যাপন এবং একঘেয়েমি রুটিন থেকে বেরিয়ে এ রকম ছোট ছোট আনন্দভ্রমণ কাজের প্রতি উৎসাহ সত্যিই আরও বাড়িয়ে দেয়।’
বন্ধু দেব রায় সৌমেন বলেন, ‘পুরোনো সবকিছুকে পেছনে ফেলে নতুন করে নতুন বছর শুরু করার জন্য এমন আনন্দ উৎসব খুব প্রয়োজন। আর সেটি যদি হয় প্রকৃতির কোলে, তাহলে কাজ করার স্পৃহা আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।’
আনন্দভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, শেখ ফয়সাল আহমেদ, শ্রেয়ান ঘোষ, সূবর্ণা দেব, গায়ত্রী বর্মন, তন্বী, প্রণব, সুমন, সৌম্য, মিনথিয়া, জয়, শাহরিয়ারসহ আরও অনেক বন্ধু।
সবুজের মাঝে কাটানো দিনটি যেন সবার মনে লিখে দিল একটি কথা—সাফল্য উদ্যাপন করতে জানলেই কাজের আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়।