হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘গৌরীপুর জংশন’ নিয়ে পাঠচক্র

সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: প্রণব চৌধুরী

বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন হুমায়ূন আহমেদ। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার ও নাট্যকার। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। স্বাধীনতা–পরবর্তী বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে গণ্য করা হয় তাঁকে। ‘মিসির আলী’, ‘হিমু’ তাঁর সৃষ্ট অন্যতম সেরা চরিত্র। তিনি একাধারে রাঙিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রজগৎও। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘আমার আছে জল’, ‘আগুনের পরশমণি’সহ একের পর এক কালজয়ী সৃষ্টি।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস ‘গৌরীপুর জংশন’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে। ২৭ ফেব্রুয়ারি বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘গৌরীপুর জংশন’ উপন্যাসটি হুমায়ূন আহমেদের চিরায়ত লেখনীকেই প্রতিফলিত করে। পাণ্ডুলিপি পড়ে এর নামকরণ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন ‘জয়নাল’ নামের একজন কুলি। ভারী বস্তা কাঁধে পড়ে জয়নাল এখন পঙ্গু। ভারী মাল বইতে পারেন না, ছোটখাটো চুরি–বাটপারিই এখন তাঁর জীবনের সম্বল। জয়নালকে ভালো কিংবা খারাপ মানুষ হিসেবে নয়; বরং স্টেশনের ভ্রাম্যমাণ মানুষদের প্রতিচ্ছবি হিসেবে হাজির করেছেন লেখক। পুরো স্টেশনের এক দিনের গল্প আর জয়নালের জীবন দুটোকেই লেখক জয়নালের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক করে দিয়েছেন। রেলস্টেশনগুলো কেবল দৈনিক হট্টগোল আর যান্ত্রিক কারসাজিতেই দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং এর ইটের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে জয়নালদের মতো মানুষের জীবনের গল্প।

বন্ধু অমিত দেব নাথ বলেন, উপন্যাসটিতে উঁচু স্তরের সমাজের কাছে দৃষ্টিগোচর চরিত্রগুলোই মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে স্থান পেয়েছে।

বন্ধু অম্লান রায় বলেন, ‘পৃথিবী ও জীবন দুটোই আপেক্ষিক। তেমনি জয়নালের দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবী ও জীবন দুটোই স্টেশনকেন্দ্রিক। ক্ষমতার কালো-সাদা হাতছানি, শক্তি প্রদর্শন সবই সে দেখে, বুঝে; কিন্তু নির্বিকার জয়নাল শারীরিক অক্ষমতার কাছে অনেক আগেই পরাস্ত।’

পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, প্রাণেশ দাস, প্রণব চৌধুরী, আহসানউল্লাহ খান, শুভ তালুকদার, অম্লান রায়, প্রত্যাশা তালুকদার, অনুপমা দাস, আল আরাফসহ অনেকে।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা