নোয়াখালী বন্ধুসভার ফল উৎসব

জেলা প্রেসক্লাবে নোয়াখালী বন্ধুসভার ফল উৎসবছবি: বন্ধুসভা

বাহারি ফলের সমাহার, প্রাণবন্ত আড্ডা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নোয়াখালী বন্ধুসভার ফল উৎসব। গত ২৬ জুন জেলা প্রেসক্লাবে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

আম, জাম, পেয়ারা, কাঁঠাল, ডেউয়া, কলা, লটকন, আনারসসহ প্রায় ১২ রকমের দেশীয় ফলের সমারোহে উৎসবটি হয়ে ওঠে রসালো ও বর্ণিল। সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদের সঞ্চালনায় আয়োজনে ছিল বাহারি ফলের আসর, রম্য বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বাদল। তিনি বলেন, ‘দেশীয় ফল আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তরুণদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফল খাওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ি বা বাড়ির আঙিনায় আমাদের বেশি বেশি ফলদ, ঔষধি ও কাঠজাতীয় গাছ রোপণ করতে হবে।’

নোয়াখালী বন্ধুসভার ফল উৎসব।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক অধ্যক্ষ কাজী মো. রফিকউল্লাহ বলেন, ‘ফল উৎসব একটি ব্যতিক্রম ধরনের উৎসব। এমন উৎসব আয়োজনে থাকতে পেরে ভালোই লেগেছে।’

বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, ‘বন্ধুসভার এ ধরনের আয়োজন শুধু আনন্দের নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চাকেও সমৃদ্ধ করে।’

পরে ফলের সমর্থনে আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলকে কেন্দ্র করে একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আর্জেন্টিনার হয়ে অংশ নেন নোয়াখালী বন্ধুসভার সভাপতি আসিফ আহমেদ এবং ব্রাজিলের হয়ে অংশ নেন অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপদেষ্টা লায়লা পারভীন বলেন, ‘সৃজনশীল ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বন্ধুসভার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এমন আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।’

নোয়াখালী বন্ধুসভার ফল উৎসব।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক করবী রাণী দাস বন্ধুদের উদ্দেশে বলেন, ‘বর্তমানে মানুষের রক্তশূন্যতা ও রক্তাল্পতার প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। এর কারণ আমরা শাকসবজি, ফলমূল খাই না। তাই আমাদের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশীয় মৌসুমি ফল, শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে।’

সাধারণ সম্পাদক সানি তামজিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদা ইসলামের কবিতা আবৃত্তিতে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ আরও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বন্ধুসভা দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করে আসছে। ফল উৎসবের মতো আয়োজন সেই ধারাবাহিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।’

একপর্যায়ে ফল খাওয়ার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ফল নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে বিজয়ী হয় পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক শান্ত চন্দ্র দে ও বন্ধু সুমাইয়া তাসনিম।

ফল উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবদুল হালিম মিলন, মাহফুজের রহমান, কামাল হোসেন, সহসভাপতি মো. শিমুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরি, বইমেলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক নাফিস আহমেদসহ অনেকে।

অর্থ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা