বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে হবে

গোপালগঞ্জে বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক প্রশ্নে কুইজ প্রতিযোগিতাছবি: প্রথম আলো

‘মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, তাঁদের সম্মান দিতে হবে। জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, অনেকেই আহত হয়েছেন। সেই ত্যাগের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার নয়।’

‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’–এর গোপালগঞ্জ পর্বে কথাগুলো বলেন মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা হেলেনা বেগম। আজ রোববার বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে গোপালগঞ্জ বন্ধুসভা। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরাঙ্গনা হেলেনা বেগম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্বের কথা বলেন।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ শিরোনামে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গোপালগঞ্জে বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শেষে বিজয়ীদের সঙ্গে বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: প্রথম আলো

গোপালগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি ফারদুল্লাহ লস্করের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুর রহমান, বন্ধুসভার উপদেষ্টা লেখক মিন্টু হক, প্রথম আলোর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি নুতন শেখ, গোপালগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুপম কুমার বিশ্বাস, সীতানাথ মথুরানাথ মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিকদার জাহিদ হোসেন, বোড়াশী উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অর্পণা রায় প্রমুখ।

অধ্যক্ষ মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই তাদের মাতৃভূমির জন্ম ও স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, তবে তাদের মনে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায় থেকেই শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো শিশুদের সামনে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা।’ তিনি আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে অভিভাবকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। সন্তানের চলাফেরা ও আচরণের প্রতি সব সময় নজর রেখে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যাচাই–বাছাই শেষে ৫ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রথম হয়েছে হরিদাসপুর রয়েল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাজিদুর রহমান, দ্বিতীয় যুগশিখা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাহিয়া ইসলাম, তৃতীয় সীতানাথ মথুরানাথ মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শেখ সামী, চতুর্থ জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তামজিদ আহমেদ এবং পঞ্চম হয়েছে সরসপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের নম্রতা ঘটক।

বিজয়ীদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই উপহার দেওয়া হয়। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।