সাতক্ষীরা বন্ধুসভার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
‘এ বছর আমাগের একিনে মেলা শীত পড়তিছে। ঠান্ডায় শরীরে কাঁপুনি ধরি যায়। ঘরেরতে বের হতি পাচ্চি নে। কম্বলডা পেয়ি শীতিত্তি অনেক উষ্ণতা পাওয়া যাবেনে। তোমাগে আল্লাহ ভালো রাখুক।’
সাতক্ষীরা বন্ধুসভার পক্ষ থেকে কম্বল উপহার পেয়ে বন্ধুদের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেন সুন্দরবন–ঘেঁষা শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের বাসিন্দা ছফুরা বানু (৭৪)। ১৮ জানুয়ারি প্রথম আলো ট্রাস্ট্রের সহযোগিতায় এগুলো বিতরণ করা হয়।
এদিন বন্ধুরা সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বুড়িগোয়ালিনী, দাতিনাখালী, নীলডুমুর, পোড়াকাটলা, কলবাড়ি, চণ্ডীপুর, আড়পাঙ্গাসিয়া; মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী, চুনকুড়ি, হরিনগর এবং শ্যামনগর উপজেলা সদরে শীতার্ত ৩০০ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন।
এর আগে শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের এসব গ্রামে গিয়ে শীতার্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেন বন্ধুরা। পরে তাঁদের হাতে টোকেন পৌঁছে দেওয়া হয়।
কম্বল পেয়ে দাতিনাখালী গ্রামের বাসিন্দা রূপবান বিবি (৭৩) বলেন, ‘যে ঠান্ডা পড়ছে, তাতে গরম কাপুড় না হলি ঘুমুনো যায় না। কম্বলডা পেয়ি খুব ভালো লাগদিছে। ঠান্ডার মদ্দি রাত্রিবেলা গায় দে ঘুমাতি পারবানে।’
চুনকুড়ি গ্রামের প্রমিলা সরদার (৬৫) বলেন, ‘প্রথম আলো আমাগের ঝড়বৃষ্টি ও সাইক্লোনে বাঁচতি আশ্রয়কেন্দ্র করে দেচ্ছে। বছর বছর শীতে শীতবস্ত্র দেয়। কম্বল পাইয়ে শীতে ভালো থাকতি পারবানে।’
সিংহড়তলী গ্রামের রহিম কারিগর (৭২) বলেন, ‘শীত কাপড়ের অভাবে ঠান্ডায় খুব কষ্টে আছি। ঠান্ডায় সর্দি-কাশিতে জীবন বারুই য্যাতে। কম্বল পাইয়ে উপকার হবেনে।’
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্কুলশিক্ষক মহসিন বিল্লাহ, মাদ্রাসাশিক্ষক আবুল কালাম, সিংহড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে আবদুর রব, সহকারী শিক্ষক নেছার আলী ও কল্পনা রানী সরদার, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, বন্ধুসভার বন্ধু রাহাতুল ইসলাম, মলয় চন্দ্র মন্ডল, করিমন নেছা, শারমিন আক্তার, নাঈমুর রহমান, ওসমান গনি, সুদীপ্ত দেবনাথ, সবুজ তরফদার ও আল আমিন।