বিভ্রমের আবরণে বিভার খোঁজ

পাঠচক্রে বই নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধু প্রিয়াঙ্কাছবি: বন্ধুসভা

বিভ্রম কাটিয়ে আলোর দিশা বা বিভাকে কে না চায়? কিন্তু সেই বিভা কি সত্যিই সব সময় কেবল মঙ্গলময়? আর বিভ্রমের পথ কি শুধুই হতাশার, নাকি কুয়াশার ভেতরেও কোথাও আলতো করে লুকিয়ে থাকে আলোর উপস্থিতি?

হতাশায় ভোগা চরিত্র আলতামাশের জীবনছায়া শুনতে শুনতে এমনই কিছু বিস্ময়কর প্রশ্ন থমকে দিয়েছিল পাঠকদের। উপলক্ষটি ছিল ভৈরব বন্ধুসভার ২০৫তম পাঠচক্র; আর আলোচনার টেবিলে ছিল সাদাত হোসাইনের উপন্যাস ‘বিভা ও বিভ্রম’। ১৩ জুলাই প্রথম আলো ভৈরব অফিসে পাঠচক্রটি অনুষ্ঠিত হয়।

কিছু বই পড়া শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার ভাবনার রেশ ফুরায় না। ‘বিভা ও বিভ্রম’ তেমনই এক সৃষ্টি। উপন্যাসটি বারবার প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, ‘বাস্তবতা আসলে কী?’ আমরা যা দেখি, সেটুকুই কি সত্য? নাকি আমাদের অনুভূতি, স্মৃতি আর বিশ্বাসই তৈরি করে একেকটি মায়াজাল বা বিভ্রম?

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বইটি মানুষের ভয়, একাকিত্ব, অনিশ্চয়তা আর অবচেতন মনের দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। ‘বিভা’ যেন সত্য ও আলো আর আত্মোপলব্ধির প্রতীক। ‘বিভ্রম’ মনের তৈরি সেই আবরণ, যা সত্যকে আড়াল করে রাখে।

বইটির সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর এটি তৈরি করে দেয় না; বরং সঠিক প্রশ্নগুলো করতে শেখায়। সাদাত হোসাইনের সহজ অথচ গভীর ভাষার বুনন উপন্যাসটিকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে পাঠকের মনে। কারণ, ‘সত্যকে খুঁজতে গেলে অনেক সময় বিভ্রমের ভেতর দিয়েই হাঁটতে হয়।’ উপন্যাসের এসব সূক্ষ্ম দিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপকগুলো নিয়ে চমৎকার বিশ্লেষণ করেন কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়াঙ্কা এবং পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা।

ভৈরব বন্ধুসভার ২০৫তম পাঠচক্র।

পাঠের এ আসরে উপস্থিত থেকে আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও ভৈরব বন্ধুসভার উপদেষ্টা সুমন মোল্লা। এ ছাড়া সুচিন্তিত মতামত ও প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা জনি আলম, সভাপতি জান্নাতুল মিশু, সহসভাপতি আফিসা আলী, সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক রাহিম আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোশারফ রাব্বি, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক নূরাইন রামিম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপী বেগম, বইমেলা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, বন্ধু অনুপম, তুহিন ও ইমরান।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা