‘বাঙালির প্রথম পরিচয় যে সে বাংলা বলে এবং বাংলা চর্চা করে। এখানে সে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সেটাই একমাত্র নয় বাঙালিত্বের। অবাঙালিও তো বাংলা বলতে পারেন, কেউ কেউ যে বলেন না, এমনও নয়। বাঙালিকে বাঙালি হওয়ার জন্য অন্য বাঙালির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া আবশ্যক। তার মানে, বাঙালি যে দুর্দশায় নির্লিপ্ত অবস্থায় রয়েছে, সেখান থেকে তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করাটাও বাঙালিত্বের পরিচয় বটে। তিনটি উপাদানই অত্যাবশ্যক।’
নিজের লেখা প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বাঙালী কাকে বলি’ বইয়ে এভাবেই বাঙালির পরিচয় দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় তিনি এ কথা বলেছেন। ১৬ নভেম্বর বিকেলে বইটি নিয়ে পাঠচক্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভা। জেলা সাধারণ পাঠাগারে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভূমিকায় লেখক আরও উল্লেখ করেন, ‘বাঙালি পরিচয়কে সম্মানজনক করতে হলে মুক্তির চেষ্টাটা অবশ্যই করা চাই। এ ক্ষেত্রে বাঙালির শত্রু হচ্ছে পুঁজিবাদ। যে কথাটা এ বইয়ে নানাভাবে এবং অনিবার্যরূপে এসেছে। পুঁজিবাদ বাঙালিকে একাধারে দরিদ্র এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। বাঙালির জাতীয়তাবাদকে তাই অবশ্যই পুঁজিবাদবিরোধী হওয়া চাই; সেই সঙ্গে তাকে লড়তে হবে দেশের অভ্যন্তরে সামাজিক বিপ্লবের পক্ষে। যাতে করে বাঙালির সঙ্গে বাঙালির মৈত্রী স্থাপিত হতে পারে।’
এই বইয়ে বিভিন্ন শিরোনামে মোট ১৬টি প্রবন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ‘খাঁটি বাঙালী’ শিরোনামের প্রবন্ধটি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।
প্রবন্ধটির শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, ‘খাঁটি বাঙালিকে খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। খুঁজতে হলে শেষ পর্যন্ত কৃষকের কাছেই যেতে হয়। সেখানে খাঁটি ধান, পাট, শ্রম, ক্ষুধাসহ খাঁটি বাঙালিও পাওয়া যাবে। তার বাইরে যতই উপরে যাবেন দেখবেন সরে যাচ্ছেন বাঙালির কাছ থেকে, নানা প্রকারের ভেজাল এসে ঝামেলা বাঁধাচ্ছে নানান বিধির।’
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, সভাপতি আরাফাত মিলেনিয়াম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আহমেদ, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হাসান, বন্ধু মাশরুফা খাতুন, হাবিবা বিনতে সিফা, মেঘলা খাতুন, ফাবিহা ফারজানা, নাফিউল হাসান, সাকিব ইসলাম, রাকিবুল হাসান, সাকিল হোসেন, মেরাজুল ইসলাম, মো. মারুফ, সৈয়দ নুরুল আমিরুল মোমেনীনসহ অন্য বন্ধুরা।
সভাপতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভা