মরমি সাধক লালন শাহর স্মরণে তাঁর সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ১৭ অক্টোবর রাতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে লালন শাহর মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, আত্ম–অনুসন্ধান এবং তাঁর গানের দার্শনিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধুরা। আলোচনায় বক্তারা বলেন, লালন শাহর গান ও দর্শন কেবল সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁর চিন্তায় উঠে এসেছে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করা, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং নিজের ভেতরের মানুষকে খুঁজে ফেরার আহ্বান। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন বর্তমান সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বন্ধু মো. ইসনাইন বলেন, ‘লালন শাহর দর্শনের মূল শক্তি হলো মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখা। জাত, ধর্ম কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন, তা আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বন্ধু মিশরী বলেন, লালন শাহর গান শুধু শোনার বিষয় নয়, বরং ভাবারও বিষয়। তাঁর গানের প্রতিটি কথার মধ্যে জীবনের গভীর অর্থ ও আত্ম–অনুসন্ধানের বার্তা রয়েছে, যা মানুষকে নিজের সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়।
বন্ধু ফারজানা আক্তার বলেন, লালন শাহ তাঁর সাহিত্য ও দর্শনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবতার কথা বলেছেন। তাঁর চিন্তাধারা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
বন্ধু হাসান করিম বলেন, ‘বর্তমান সময়ে লালন শাহর দর্শন চর্চা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাঁর মানবতাবাদী চিন্তা আমাদের সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করে।’
সমাপনী বক্তব্য দেন সভাপতি জাহিদ হাসান। এ সময় তিনি প্রথম আলো ও বন্ধুসভার ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নৌবহরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হাসান করিম। এ সময় আরও যুক্ত ছিলেন বন্ধু তালহা, রিসতা, সুতপাসহ অন্য বন্ধুরা।