‘কম্বল উড়ি কামকাজ করমো, নামাজ পড়া যাইবে’

প্রথম আলো ট্রাস্টের অর্থায়ন এবং দিনাজপুর বন্ধুসভার সহায়তায় কম্বল উপহারছবি: বন্ধুসভা

‘এইবার শীত এংনা বেশি পড়োছে। রাইতত ঠান্ডা বেশি। শীলশীল করি বাতাস বহেচে। অনেক বেলা হচে তাও রোদ আইসে না। ঠান্ডাত হামাক কম্বলটা দিলেন। কম্বল উড়ি (গায়ে দিয়ে) কামকাজ করমো, নামাজ পড়া যাইবে। কম্বলটা পায়া হামার খুব উপকার হইল।’

দিনাজপুর বন্ধুসভার বন্ধুদের কাছ থেকে কম্বল উপহার পেয়ে এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেন বর্ষীয়ান রফিউদ্দীন মৌলভি (১০৫)। তাঁর বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে। গত ২৯ ডিসেম্বর ঘুঘুডাঙ্গা বাজার এলাকায় প্রথম আলো ট্রাস্টের অর্থায়ন এবং দিনাজপুর বন্ধুসভার সহায়তায় আড়াই শতাধিক মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।

ছবি: বন্ধুসভা

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দিনাজপুরে দিনের তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯১ থেকে ৯৭ শতাংশ। মধ্যদুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকে সূর্য। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় মানুষের জনজীবন দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা বেশ নাজুক। এমন আবহাওয়ায় প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যদের কাছ থেকে কম্বল পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ঘুঘুডাঙ্গা ও তালতলা এলাকার মানুষ।

লাঠিতে ভর করেও এসেছেন কয়েকজন বৃদ্ধ। সকাল ১০টায় নারী-পুরুষকে পৃথকভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। কম্বল পেয়ে খুশি আলেমা বেগম (৬০) বলেন, ‘খুব ঠান্ডা বা, হাত-পা কোকড়া নাগি যাছে। ঘরের বাহিরত বাহির হওয়া যাওছে না। বয়স হইছে, কামকাজ করার পারি না। কম্বলটা ঠান্ডাখানোত খুব কাজত আসিবি।’

মোছা. নূরনেছা (৫০) কম্বল পেয়ে আবেগের সুরে বলেন, ‘মোর বাড়ি ঘুঘুডঙ্গা থাকি মেলা দূরত। বাড়ি এলাটা হাটিবার পারে না, লাটি ধরি বেড়ায়, তাই কম্বলখান নিবার মুই আছছু। এই ঠান্ডাত অনেক ভালো হইবে কম্বলটা উড়িবার।’

ছবি: বন্ধুসভা

মাইনুদ্দিন হোসেন (৪৮) বলেন, ‘ঘুঘুডাঙ্গা এলাকাটা নদীর পাড়ে। খুব ভালো লাগল প্রথম আলো এ রকম প্রত্যন্ত এলাকায় শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কয়েক দিন ধরে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এই অবস্থায় কম্বলটা পেয়ে মানুষের অনেক বেশি উপকার হইল।’

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা রাজিউল ইসলাম, দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান সাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খাদেম আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মো. হালিমসহ কোতোয়ালি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং বন্ধুসভার সদস্যরা।

সাংগঠনিক সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা