যারা জিপিএ-৫ পায়নি, তাদের প্রতিও সহমর্মী হতে হবে

রংপুরে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসছবি: বন্ধুসভা

‘আমরা এসেছি তোমাদের স্বীকৃতি দিতে। ভবিষ্যতে তোমরা শিক্ষক, বিজ্ঞানী, লেখক, সাংবাদিক, চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হবে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেরা মানুষ হওয়া। যারা জিপিএ-৫ পাওনি, তোমরাও ভবিষ্যতে ভালো করবে। প্রথম আলো সব সময় ভালো কাজের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। শিক্ষার্থীদের উপযোগী দুটি ম্যাগাজিন রয়েছে। বিজ্ঞানচর্চা ও কিশোর আলো। আমি আশা করি, এটি পড়ার মাধ্যমে তোমাদের চিন্তা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে। প্রথম আলো বাংলাদেশের জয় চায়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।’

রংপুরে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। ২২ আগস্ট রংপুর জিলা স্কুল মাঠে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সকাল ১০টায় শুরু হয় মূল আয়োজন। এর আগে ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুম মুনিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই ফলাফলকে শেষ মনে করলে হবে না। এটিকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।’

রংপুর জিলা স্কুলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাজহারুল হান্নান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, ‘সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। সিলেবাস বড়, সময় কম। এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’ তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও শিক্ষার্থীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

কৃষি উদ্যোক্তা উম্মে কুলসুম পপি বলেন, ‘উৎসাহ পেলে কর্মস্পৃহা দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে যারা জিপিএ-৫ পায়নি, তাদের প্রতিও সহমর্মী হতে হবে। প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করার মাধ্যমে মানবিক হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যা, মাদক ও মিথ্যাকে ‘না’ বলতে শপথ করান প্রথম আলোর রংপুরের সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুল হক।

রংপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফাহবিদা বিন রেজা এসেছিল বাবার সঙ্গে। বাবা রেজাউল করিম নিজে একজন কলেজশিক্ষক। তিনি বলেন, ‘মেঘ কাটিয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল। প্রথম আলো দিয়ে শুরু। ওদের সঙ্গে আনন্দ শেয়ার করতে এসেছি।’

দিনাজপুর থেকে দল বেঁধে এসেছে আমেনা-বাকী রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। রামিসা মোবাশ্বিরা বলে, ‘বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, সেলফি তোলা আর কুইজে অংশ নেওয়া—সব মিলিয়ে অনেক মজা করেছি।’

অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য ও থিম সং পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা। বিসা খাঁ সাহা ও আরওয়া সালসাবিল মায়রা নৃত্য পরিবেশন করে। মদন মোহন রায় ও শর্মিলা সোমা গান পরিবেশন করে। ইন্টারন্যাশনাল গ্রামার স্কুলের শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে গায় ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রংপুর বন্ধুসভার বন্ধু শাহরিয়ার আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান। তিনি সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই কনকা-গ্রি। সহযোগিতায় ছিল কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আকিজ টেলিকম লিমিটেড, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা এবং প্রথম আলো বন্ধুসভা।

সাধারণ সম্পাদক, রংপুর বন্ধুসভা