সরকার যেন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুর বন্ধুসভার মানববন্ধনছবি: বন্ধুসভা

দেশব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে দিনাজপুর বন্ধুসভা। ২২ মে বিকেলে জেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বন্ধুসভার সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীরা নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সমাজে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা জলিল আহমেদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কানিজ রহমান, দিনাজপুর আদর্শ কলেজের শিক্ষক রুবি আফরোজ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা অমৃত কুমার রায়, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, সাংবাদিক একরাম তালুকদার, প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম প্রমুখ।

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুর বন্ধুসভার মানববন্ধন।

প্রথম আলোর প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা আজ সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব সহিংসতা আমাদের মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পারলে সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। প্রথম আলো বন্ধুসভা সব সময় মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে নারী ও শিশুরা ভয় নয়, নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকবে।’

দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। সব ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আজ সারা বাংলাদেশ একতাবদ্ধ হয়েছে। আজকাল বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমরা একটি নষ্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যেটি আমাদের সমাজব্যবস্থা, আমাদের সংস্কৃতি ও আমাদের দেশসহ সবকিছুকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। শক্ত ও কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এ দেশ, এ সমাজ টিকবে না।’

‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এসব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে আমরা একসময় একটি পঙ্গু সমাজব্যবস্থায় গিয়ে দাঁড়াব। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আর কোনো কোমলমতি শিশুদের যেন প্রাণ দিতে না হয়। কোনো মায়ের কোল যেন আর খালি না হয়। সরকার যেন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে,’ যোগ করেন গোলাম নবী দুলাল।

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুর বন্ধুসভার মানববন্ধন।

আদর্শ কলেজের শিক্ষক রুবি আফরোজ বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমি একজন মা, একজন নারী, আমি আমার সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত। আমি নিজেকে নিয়েও চিন্তিত। ধর্ষণকে এখন অপরাধীরা একধরনের উৎসব হিসেবে নিয়েছে এবং রাষ্ট্র একটি প্রহসন চালাচ্ছে। আইন ও বিচারব্যবস্থা হয়তো ভঙ্গুর হয়ে গেছে। কেননা, ভঙ্গুর না হয়ে গেলে আজ এই অপরাধীরা ছোট্ট শিশু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না। তারা ভয় পেত। আমাদের সমাজব্যবস্থা অচল হয়ে গেছে। একজন ৭০ বছর বয়স্ক নারীকে দেখলে বাজে মন্তব্য, একজন মধ্যবয়সী বা যুবতী নারী দেখলে বাজে মন্তব্য। রাস্তাঘাট, ফেসবুকসহ সবখানেই নারীদের নোংরা মন্তব্য করা হয়। নারীরা কোথায় নিরাপদ? আমার সন্তান কোথায় নিরাপদ? না ভাইয়ের কাছে, না বাবার কাছে, না প্রতিবেশীর কাছে। বর্তমানে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তার জন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

দিনাজপুর বন্ধুসভার সহসভাপতি দীপু রায় বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে।’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাঁরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা