প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন, আশা ও ভালোবাসা নিয়ে ট্রেনে চড়ে বাড়ির পথে রওনা হন। কেউ প্রিয়জনের কাছে ফিরতে, কেউবা নতুন কোনো গন্তব্যে ঘুরতে। কিন্তু এই যাত্রা অনেক সময় পরিণত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে। চলন্ত ট্রেনে নির্বিচার পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা, প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে। এতে থমকে যাচ্ছে অনেক পরিবারের স্বপ্ন, নেমে আসছে শোকের ছায়া।
এই অমানবিক ও বিপজ্জনক প্রবণতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে পটিয়া বন্ধুসভা। ‘চলন্ত ট্রেনে কেউ পাথর ছুড়বেন না' আহ্বানে ২ মে সকালে পটিয়া রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সঞ্চালনার শুরুতেই সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহ দিকগুলো তুলে ধরেন। সাধারণ সম্পাদক মোকারম আলী বলেন, দেশের অনেক স্থানে প্রায় প্রতিদিনই কিছু বিপথগামী শিশু-কিশোর, গ্যাং সদস্য ও দুর্বৃত্তরা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। তাদের কাছে ক্ষণিকের আনন্দ হলেও এর ফলে অনেক পরিবারের জীবনে নেমে আসে দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট ও শোক।
উপদেষ্টা রশীদ এনাম বলেন, ‘গত আট বছরে আড়াই হাজারের বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে জানালার কাচ ভাঙা, বগি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও যাত্রীদের গুরুতর আহত বা মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ২০১৩ সালে প্রীতি দাশ নামের এক প্রকৌশলী এবং ২০১৮ সালে ট্রেন পরিদর্শক বায়েজিদ পাথরের আঘাতে প্রাণ হারান।'
অধ্যাপক ভগীরথ দাশ বলেন, ‘সম্প্রতি কক্সবাজার রুটেও এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ঘটনায় যাত্রীরা আহত হয়েছেন—কারও দাঁত ভেঙেছে, কারও মাথা ফেটেছে। নিয়মিতভাবে এমন ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিকার এখনো দৃশ্যমান নয়।' তিনি প্রতিটি রেলস্টেশনে সচেতনতামূলক ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পটিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার তন্ময় চৌধুরী ও বুকিং সহকারী ফরিদুল মাওলা বন্ধুসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে এবং বিষয়টি রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
মানববন্ধন শেষে সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহ আলম একটি সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শন করেন। বেলা একটায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে যাত্রীদের উপস্থিতিতে নাটিকাটি প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন পটিয়া বন্ধুসভার সভাপতি আইরিন সুলতানা, বন্ধু মোরশেদুর রেজা, সাজ্জাদ রাফি, মো. ফাহিম, পার্থ প্রতীম দাশ, তানাস চৌধুরী, জুয়েল উদ্দীন, আবদুল মুহী, মাহবুবা সামিয়া, হুমাইরা জান্নাত, মিফতাহুল জান্নাত, তন্ময় চৌধুরী, বুশরা আক্তারের, সামিরা জান্নাতসহ অনেকে। তাঁরা আশা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে। দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে এ ধরনের কর্মসূচি করারও আহ্বান জানান।
সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা