বর্তমানে বইমেলার ধরন পরিবর্তন হয়েছে, পাঠক পরিবর্তন হয়েছে, প্রকাশনার ধরনও পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষক ও কবি মাহবুব পারভেজ। তিনি বলেন, ‘আমি যখন শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন ২৮ দিনের বইমেলার ২৮ দিনই আসতাম। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্টলে কাজও করেছি। অন্যান্য যেসব স্টলের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, কোনো একটা স্টল থেকে বই নিতাম, বইটি স্টলের ভেতরে বসে ওই দিন পড়ে, বইটা রেখে আবার বাসায় যেতাম। এভাবে আমার এক বইমেলায় সর্বোচ্চ ২২টি বই পড়ার রেকর্ড আছে। এটা সম্ভব হয়েছে বইমেলার সৌজন্যেই।’
অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ লাইভ ‘বন্ধুর বই’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় মৌসুমের অষ্টম পর্বে অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন মাহবুব পারভেজ। বলেন, ‘বর্তমানে যাঁরা পড়ে তাঁরা ই–বুক পড়ে। আর যাঁরা বই পড়ার পাশাপাশি সংগ্রহে রাখতে চায়, তাঁরা বইটি কিনে। পুরোনো পাঠক যাঁরা আছেন বা এখনকার নতুন পাঠকদের মধ্যেও দেখি অনেকেই বই কিনতে পছন্দ করে। আমার ছাত্রদের মধ্যেও দেখেছি ব্যাগের ভেতর বই নিয়ে আসতে; তারপর অবসর সময়ে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে বসে ওই বইটি পড়ে। এর মানে হচ্ছে, বইয়ের প্রতি তাঁর মায়া আছে।’
বিশ্বখ্যাত মুঠোফোন ব্র্যান্ড অনারের সৌজন্যে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘বন্ধুর বই’ লাইভের এই পর্বের সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেঘা খেতান।
কর্মব্যস্ততার মধ্যে লেখালেখিতে সময় দেন কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব পারভেজ একটি কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি উল্লেখ করেন—
‘হাঁটা, চলা, আর দৌড়
দিন তো চলছেই
খাওয়া, ঘুম আর ভাবনা
নতুন প্রজন্মের গাড়ি, কাঁটা ছাড়া ঘড়ি,
এমনকি আমার পুরোনো সাইকেলটাও চলছে।’
বলেন, ‘পুরোনো সাইকেল যেহেতু চলছে, এর ভেতরে তো সময় বের করতে হবেই।’
বইমেলায় আসলে পাঠক হিসেবে ঘুরতে ভালো লাগে বলে জানান মাহবুব পারভেজ। বলেন, ‘আমি আসলে নিজেকে লেখক মনে করি না। আমি কেবল নিজের মনের টুকরা টুকরা কথাগুলোকে লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করি। সেই হিসেবে পাঠক হিসেবে বইমেলায় ঘুরতে ভালো লাগে, বই কিনতে ভালো লাগে। প্রতিবছরই আমি অনেক বই কিনি এবং সেই বইগুলো সারা বছর পড়ি। অন্যদের বই উপহার দিতেও পছন্দ করি।’
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এ মেলা চলবে। একই দিনে শুরু হয় অনারের সৌজন্যে অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ লাইভ ‘বন্ধুর বই’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় মৌসুম।
বন্ধুসভার যে বন্ধুর বই প্রকাশিত হয়েছে, হচ্ছে বা হবে, তাঁদের বই সম্পর্কে আলোচনা ও প্রচারণার লক্ষ্যে বন্ধুসভার ফেসবুক পেজ থেকে মেলা চলাকালে প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট বন্ধুকে নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান হচ্ছে। এ ছাড়া বন্ধুসভার ওয়েবসাইটে মাসব্যাপী প্রতিটি বইয়ের রিভিউ ও সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। বন্ধুদের লেখালেখি ও বই প্রকাশকে উৎসাহিত করার জন্যই বন্ধুসভার এ আয়োজন।