ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা এবং বাস্তব জীবনের কঠিন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত আত্মোপলব্ধির গল্প মেঘ বলেছে যাব যাব। এটি হুমায়ূন আহমেদ রচিত বাস্তবধর্মী ও সমকালীন একটি উপন্যাস। বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নোয়াখালীর মাইজদী বালিকা বিদ্যানিকেতন স্কুল প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদের সঞ্চালনায় বন্ধুদের পরিচয়পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আলোচনা। পাঠচক্রে বন্ধুরা উপন্যাসের চরিত্র, মানুষের ভেতরের আশা ও দ্বন্দ্ব এবং নতুন স্বপ্নে বাঁচার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
মেঘ বলেছে যাব যাব উপন্যাসে লেখক মেঘের চলার ইচ্ছাকে মানুষের স্বপ্ন ও অনিশ্চয়তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। হুমায়ূন আহমেদ বরাবরই তাঁর লেখায় মানুষের জীবনের সাধারণ ঘটনাগুলোর সুন্দর রূপান্তর করেছেন। তাঁর লেখায় খুঁজে পাই জীবনের চাপা অনুভূতি।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরী বলেন, ‘উপন্যাসের প্রতিটি দৃশ্য আমাদের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে আলোকিত করে। প্রধান চরিত্র হাসানের টিউশনি করে পরিবার চালানোর দৃশ্যায়নের মাঝে মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা সুন্দর করে তুলে ধরেছেন লেখক।’
সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদ বলেন, ‘গল্পটা পড়ে মনে হলো, জীবনও মেঘের মতো স্থির নয়। সাহস নিয়ে এগোতে হবে এবং ভেতরের ভয়কেও মেনে নিতে হবে।’
ম্যাগাজিন সম্পাদক বুশরা করিম বলেন, উপন্যাসের ভাষা সহজ, কিন্তু ভাবের গভীরতা অসীম।
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজ বলেন, ‘মেঘের চলার গল্প আমাদের শেখায়, আশা ও অস্থিরতা একসঙ্গে থাকতে পারে। নিজেকে মেঘের মতো মুক্ত হতে দিতে হবে। তবেই আমাদের জীবন সুন্দর হবে।’
অর্থ সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম বলেন, উপন্যাসে হাসান নামের এক বেকার যুবকের জীবনের সংগ্রাম এবং তার প্রেমিকা তিতলির বিয়ে হয়ে যাওয়া ও মানসিক যন্ত্রণা মূল বিষয়বস্তু ছিল।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন জেন্ডার ও নারী সম্পাদক জয়শ্রী নাথ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক নাফিস আহমেদ, বইমেলা সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক সৌভিক দাস ও বন্ধু হামিম আহমেদসহ অনেকে।
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা