‘গণিতের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ ধরে রাখতে হবে’
শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমন—এমন একটি সকালে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হয় শত শত শিক্ষার্থী। সবার চোখে গণিত জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা!
‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগানে ৭ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয় ডাচ্–বাংলা ব্যাংক- প্রথম আলো আঞ্চলিক গণিত উৎসব ২০২৬। এতে অংশ নেয় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ও জয়পুরহাট জেলার পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবদুল ওয়াদুদ মন্ডল এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্–বাংলা ব্যাংক দিনাজপুর শাখার উপব্যবস্থাপক মোস্তফা হেলাল সুজন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ শিলাদিত্য শীল, দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাজাহান সাজু, প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম, আঞ্চলিক বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা সাব্বির হাসান এবং দিনাজপুর বন্ধুসভা ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার বন্ধুরা। সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর বন্ধুসভার সভাপতি শবনম মুস্তারিন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে দিনাজপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা ডা. শিলাদিত্য শীল বলেন, ‘গণিত হচ্ছে একধরনের ভাষা। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় জানা যায়। সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত মানুষের জীবনের সঙ্গে গণিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’
দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবদুল ওয়াদুদ মন্ডল বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছি এটা দেখে যে শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমাদের আগেই এখানে উপস্থিত হয়েছে। গণিতকে ভালোবেসে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস আমাকে অভিভূত করেছে। গণিতের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ ধরে রাখতে হবে।’
ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের দিনাজপুর শাখার উপব্যবস্থাপক মোস্তফা হেলাল সুজন বলেন, ‘শরীরকে ভালো রাখতে দরকার শরীরচর্চা, আর মনকে ভালো রাখতে দরকার গণিতচর্চা। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও মানসিকভাবে ভালো রাখতে গণিতচর্চা বাড়ানো দরকার। তবে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে গণিতচর্চা অনেক দূর এগিয়েছে। তাঁরা স্নাতকে পড়ার সময় গণিতের যেসব বিষয় পড়েছেন, খুদে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকেই তা রপ্ত করছে।’
বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাবিবুল হাসান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এ রকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে আইনস্টাইনের মতো মানুষ তৈরি হবে। তবে যাত্রাটা সহজ নয়। যখন দেখি বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরাজিত করে আমাদের শিক্ষার্থীরা পতাকা ওড়াচ্ছে, তখন আমরা বড় সাফল্যের দেখা পাই। আজ নতুন প্রজন্ম অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে পুনর্জাগরণের জন্য ডাচ্–বাংলা ব্যাংক–প্রথম আলোর এই আয়োজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
সকাল সোয়া ১০টায় ঘণ্টাব্যাপী মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসেছে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান। সে বলে, ‘সকাল সাতটায় রওনা করেছি। বাবা নিয়ে এসেছেন। কয়েক দিন থেকে প্র্যাকটিস করছিলাম। ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। গণিত সমাধান করতে আমার খুব ভালো লাগে।’
দিনাজপুর শহরের চাউলিয়াপট্টি এলাকা থেকে আসা অভিভাবক শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘আসলে গণিত ছাড়া বাচ্চারা তো আগাইতেই পারবে না। সঠিক চর্চা না থাকায় দেখবেন, গণিতে ফেল করার হার বেশি। এ ধরনের আয়োজন করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতে আগ্রহ বাড়ছে।’
আয়োজকেরা জানান, ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এ উৎসবের আয়োজন করেছে। দিনাজপুর আঞ্চলিক পর্বে প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—চার ক্যাটাগরিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। অনলাইন বাছাইয়ের মাধ্যমে ৬৫৪ শিক্ষার্থীকে আঞ্চলিক পর্বে ডাকা হয়। মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫১২ পরীক্ষার্থী।