১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কুড়িগ্রামের সোনাহাট ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল। সেই স্মৃতিচারণা করে কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ছিলাম ৩২ জন, আর পাকিস্তানি বাহিনী ছিল শতাধিক আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। মাঝখানে ছিল দুধকুমার নদ। যুদ্ধের একপর্যায়ে আমার হাতে গুলি লাগে। আশ্রয় নিতে বাধ্য হই, কিন্তু সহযোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে যায়। একসময় পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটে।’
কুড়িগ্রামে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে সেই গল্প শোনেন। অলিম্পিয়াডে অংশ নেন তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের একজন সদস্যও। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আজ নিজের পরিবারের নতুন প্রজন্মের কাছে আমার যুদ্ধের গল্প বলার সুযোগ পেয়েছি—এটাই আমার জন্য বড় আনন্দ।’
৩১ মার্চ কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাইস্কুলে এই অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এটির আয়োজন করে কুড়িগ্রাম বন্ধুসভা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই পড়তে হবে। সঠিক ইতিহাস না জানলে স্বদেশপ্রেম জাগ্রত হয় না। নির্ভরযোগ্য ইতিহাস জানতে বেশি বেশি বই পড়ার বিকল্প নেই।
অলিম্পিয়াডে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা, রিভার ভিউ হাইস্কুল, কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
পরে পাঁচজন বিজয়ী শিক্ষার্থীর হাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই তুলে দেওয়া হয়। প্রথম হয়েছে ইসরাত জাহান, দ্বিতীয় তাসনিম আলম, তৃতীয় ফাতিহা তাফসির, চতুর্থ মারজাবিন মারিয়া ও পঞ্চম হয়েছে শেহজাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, শিক্ষক মোশাররফ হোসেন, রেজাউল করিম, বন্ধুসভার উপদেষ্টা সফি খান, মোখলেছুর রহমান, রুকুনুজ্জামান রুকুসহ বন্ধুসভার অন্যান্য বন্ধুরা।
সাধারণ সম্পাদক, কুড়িগ্রাম বন্ধুসভা