বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ফরাসি সাহিত্যিক এমিল জোলার আদর্শে আদর্শিত শরৎচন্দ্র তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য অপরাজেয় কথাশিল্পী নামে খ্যাত। তাঁর সাহিত্যকর্মকে ঘিরে প্রায় অর্ধশত চলচ্চিত্র বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘দেবদাস’, ‘রামের সুমতি’ অন্যতম।
বিখ্যাত এই কথাশিল্পীর অমর সৃষ্টি ‘মেজদিদি’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। ১৬ জানুয়ারি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণদিবসে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সদ্য মা–হারা বালক কেষ্টা শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পৌঁছায় তার বৈমাত্রেয় দিদি কাদম্বিনীর দ্বারে। কিন্তু কূটকৌশলী কাদম্বিনী কেষ্টাকে নিজের মতো করে গ্রহণ করে নিতে পারেনি। যত দিন অতিবাহিত হয় ততই তার বক্র কটাক্ষ আর হীন ব্যবহার কেষ্টার মাতৃশোকের ঘাড়ও ক্রমশ চেপে ধরছিল। তাতে যোগ হয়েছিল কাদম্বিনীর স্বামী নবীন মুখুজ্যের শারীরিক অত্যাচার। তখন সে মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসা খুঁজে পায় কাদম্বিনীর মেজ জা হেমাঙ্গিনীর কাছে। কাদম্বিনী বিভিন্ন উপায়ে তাদের মধ্যে বিবাদ তৈরির চেষ্টা করলেও হেমাঙ্গিনীর কোমল হৃদয় ও কেষ্টার মাতৃস্নেহের আকুলতার কাছে সব বৃথা হয়ে যায়। এই হেমাঙ্গিনীই হয়ে ওঠে মাতৃরূপী মেজদিদি!
পাঠচক্রে আলোচনায় বন্ধু প্রাণেশ দাস বলেন, ‘মাতৃত্ব আর সহোদরতাকে একই সুরে বেঁধে দেয় এই গল্প। মাতৃস্নেহ কেবল কোনো রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ নয়, এটি সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে।’
বন্ধু অম্লান রায় বলেন, ‘এটি শুধু গল্প নয়, এটি জীবন ও বাস্তবতার প্রতিফলন।’
পাঠের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, শেখ ফয়সাল আহমেদ, অনুপমা দাস, প্রণব চৌধুরী, আরাফ রহমান, মাহবুব হোসাইন, সাজন বিশ্বাস, কৃত্য ছত্রী, সমরজিৎ হালদার, মিনথিয়া রহমান, প্রত্যাশা দে, সাদিয়া আক্তার, পিয়াস সরকার, সুমন দাশ, অমিত দেবনাথ, মাজেদুল ইসলাম, শুভ তালুকদারসহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা