জহির রায়হান রচিত উপন্যাস ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে খুলনা বন্ধুসভা। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত আটটায় এটি অনুষ্ঠিত হয়। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বন্ধুদের মধ্যে তুলে ধরতে এই পাঠচক্রের আয়োজন।
জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে এক অমর নাম তিনি। পেশায় একজন সাংবাদিক হলেও তাঁর হাত ধরেই আধুনিক ধারায় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। পাঠচক্র সঞ্চালনা করেন দপ্তর সম্পাদক আল রাইসা।
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষ বলেন, ‘বাঙালিরা যখন একটি আলাদা রাষ্ট্র চাইল, তখন ইংরেজরা আমাদের পক্ষে এসে সাহায্য করতে চেয়েছিল। তখন পূর্ব পাকিস্তান একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল ছিল। সে সময় পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৯০–৯২ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। এমন পটভূমিতে এই আন্দোলনের সূচনা হয় এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন করেন সবাই।’
বন্ধু অনির্বাণ সরকার বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি ও তার জাতিসত্তার প্রকাশ ঘটেছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ গ্রন্থে জহির রায়হান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তথ্যকে যেমন তুলে ধরেছেন, তেমনি ফুটিয়ে তুলেছেন একুশের সম্ভাবনা ও আবেগকে।
সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ইতিহাস ও ব্যাপকতা অনেক গভীর। এই দিনটিতে সবাই শুধু শহীদদের স্মরণ করে তা কিন্তু নয়; বরং এদিন সারা দেশের মানুষ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বাংলা ভাষাকে স্মরণ ও মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
পাঠের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি স্বর্ণকমল রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এম মাসুম বিল্যাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন বাওলিয়া, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক দ্বীপ মন্ডল, কার্যনির্বাহী সদস্য ফারিহা ঝিলাম, বন্ধু সাদিয়া আক্তার, বিধান দেবনাথ, লিমা আক্তারসহ অন্য বন্ধুরা।
দপ্তর সম্পাদক, খুলনা বন্ধুসভা