‘মুক্তিযুদ্ধ যদি না করতাম, তাহলে আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে পারতাম না। আমাদের সন্তানদের পিয়ন, চৌকিদারের চাকরি করতে হতো। পশ্চিম পাকিস্তানিরা এসপি, ডিসি হতো। আমরা তাদের তাবেদার হয়ে থাকতাম। তাই মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হবে না। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টির যুদ্ধ, স্বাধীনতার যুদ্ধ।’
নাটোরে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ ফরিদ। ২৮ মার্চ সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নাটোর ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে নাটোর বন্ধুসভা।
‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, তাৎপর্য ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে হয়নি; এর পেছনে অনেক বঞ্চনা, নির্যাতন-নিপিড়নের ঘটনা রয়েছে। আজকের দিনের মতো সে সময় বাঙালিরা এসপি, ডিসি, জজ, ব্যারিস্টার হতো পারত না। লেখাপড়া শিখেও কেরানির চাকরি করতে হতো। পাকিস্তানি শাসকদের তাবেদারি করতে হতো। এ পরিস্থিতি বদলানোর জন্যই আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। যুদ্ধ করার মতো আমাদের হাতে তেমন কিছুই ছিল না। ছিল বুকভরা মনোবল। হাতের কাছে যা পেয়েছি, তা–ই নিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের প্রতিরোধ করেছি। জঙ্গলে, জলে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। শুধু মুড়ি খেয়ে থেকেছি দিনের পর দিন। কারণ, আমরা জানতাম, মুক্তিযুদ্ধ না করলে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারব না। আমাদের সন্তানদের পিয়ন, চৌকিদারের চাকরি করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শেখ মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, ‘অনেকে মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হবে না। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টির যুদ্ধ, স্বাধীনতার যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা, কথাবার্তা বন্ধ করলে চলবে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই আলোচনা অব্যাহত রাখবে। স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করবে। তবেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তি পাবে, আমরা অমর হয়ে থাকব। মহান মার্চে প্রথম আলো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করে গুরুদায়িত্ব পালন করছে। প্রথম আলোকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
নাটোর বন্ধুসভার সভাপতি জমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া ফারহানা। আরও বক্তব্য দেন নাটোর বন্ধুসভার উপদেষ্টা অধ্যাপক অলোক কুমার মৈত্র, এম কে ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, পাবলিক লাইব্রেরির সহকারী গ্রন্থাগারিক সাজু আহম্মেদ, ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন প্রমুখ।
আলোচনা শেষে উপস্থিত ১৪২ জন শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষে বন্ধুসভার সদস্যদের সহযোগিতায় আমন্ত্রিত অতিথিরা ফলাফল ঘোষণা করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। যৌথভাবে প্রথম হয়েছে ইমরান খান, তাওহীদ আহম্মেদ, রবিউল ইসলাম ও জেসমিন আক্তার। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে রুহুল আমিন, ইব্রাহীম আলী, ওহিদুর রহমান, তানবীরুজ্জামান ও রাহুল মুখার্জী। তৃতীয় হয়েছে উম্মে কুলসুম এবং যৌথভাবে চতুর্থ হয়েছে তুষার ইমরান, আমজাদ হোসেন, জাকিয়া সুলতানা ও রমজান আলী।