১৫০০ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করল ড্যাফোডিল বন্ধুসভা
মানুষসহ পৃথিবীর সব প্রাণীর জীবন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বৃক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৃক্ষই এই ধরিত্রীকে প্রাণীর বাসের অনুকূল করেছে, প্রাণীর অপরিহার্য খাদ্যের সংস্থান করেছে, সর্বোপরি বাস্তুতান্ত্রিক ও আবহাওয়াগত ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। যেকোনো দেশের জন্য মূল ভূখণ্ডের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের মাত্র ১৬ শতাংশ। এ অবস্থায়ও আমরা অহরহ নির্বিচার বৃক্ষ নিধন করে চলেছি। ফলে বাংলাদেশের পরিবেশ আজ দূষণের শিকারে পরিণত হয়েছে। পরিবর্তিত হচ্ছে জলবায়ু।
দেশের পরিবেশ রক্ষার্থে বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের আহ্বানে বৃক্ষরোপণ করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সহযোগিতায় ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে তিন পর্বে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রথম পর্ব
একটি চারা রোপণের পর তার পরিচর্যা না করলে সেই উদ্যোগের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না; বরং নিয়মিত যত্নই একটি চারাকে একদিন ছায়াদানকারী বিশাল বৃক্ষে পরিণত করে। গত ১১ জুন বন্ধুরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আশপাশে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বন্ধুসভার উদ্যোগে রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করেন। বেঁকে যাওয়া গাছের সঙ্গে খুঁটি বাঁধা, আগাছা পরিষ্কার ও গাছে পানি দেওয়ার মাধ্যমে এই পর্বের কাজ শেষ করেন বন্ধুরা।
দ্বিতীয় পর্ব
এই পর্বে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সহযোগিতায় ও ড্যাফোডিল বন্ধুসভার নিজস্ব অর্থায়নে ১ হাজার ৫০০টি (বকুল, নিম, মেহগনি, পেয়ারা, আম, আমড়া ইত্যাদি) গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। ৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটির নলেজ টাওয়ারের সামনে ছোট মাঠে ৫৫০টি চারা বিতরণ করেন বন্ধুরা। এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গ্রিন আর্থ ক্লাব এবং ডিআইইউ অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্স ক্লাব।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ড্যাফোডিল বন্ধুসভা কনভেনর আনোয়ার হাবিব কাজল ও জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা মাহবুব পারভেজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ আল্লাইয়ার। তিনি বন্ধুদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। উপদেষ্টা মাহবুব পারভেজ বলেন, ‘সামনের ওই তিনটা কৃষ্ণচূড়াগাছ আমাদের বন্ধুরা লাগিয়েছিল এবং নাম দেওয়া হয়েছিল বন্ধুবৃক্ষ।’
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক দীলজেব কবির, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান মাহফুজা পারভিন, সিনিয়র প্রভাষক আনিকা নাওয়ার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গ্রিন আর্থ ক্লাবের সভাপতি নানজীবা পূর্ণ, সাধারণ সম্পাদক এস এম অভি, ডিআইইউ অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি আবু হুরাইরা বায়েজিদ ও সাধারণ সম্পাদক মহিমা জান্নাত।
তৃতীয় পর্ব
৩ আগস্ট চারা বিতরণের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন রাস্তার পাশে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধুরা প্রায় তিন ঘণ্টা সময় ধরে ১৫০টি চারা রোপণ করেন। এ বিষয়ে পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফারহান আনন্দ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের পরামর্শক্রমে কিছুদিনের মধ্যে ইউরিয়া সারসহ কম্পোস্ট মাটি ব্যবহার করব।’
অর্থ সম্পাদক রিজভী আমিন রোপণ করা চারাগুলোয় বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল বন্ধুসভার সাবেক সহসভাপতি রাকিবুল হক, সাধারণ সম্পাদক অনীক ভূষণ সাহা, সহসভাপতি ইশরাত জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান ফারসি, প্রচার সম্পাদক সুমন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজ, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ নাঈম, কার্যনির্বাহী সদস্য নুসরাত জাহান, তাবাসসুম অর্পিতাসহ অন্য বন্ধুরা।
সভাপতি, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা