‘দুই বছর ধইরা এখান থেইকা কাপড় পাইতাছি’

ভৈরব পৌর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে রঙিন জামা নিতে আসা শিশুদের একাংশ
ছবি: আনাস খান

ভৈরবের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার ১০ বছরের শিশু তাহমিনা। জন্মের এক বছরের মাথায় বাবাকে হারিয়েছে, মা-ও অসুস্থ। অভাবের সংসারে ঈদে নতুন জামার কথা কল্পনা করাও ছিল কঠিন। এই অবস্থায় ১৮ মার্চ, বুধবার দুপুরে তাহমিনার মুখে ফুটে উঠল এক চিলতে হাসি। তার হাতে ঈদ উপলক্ষে ভৈরব বন্ধুসভার উপহার দেওয়া নতুন রঙিন জামা আর ঝকঝকে ২০ টাকার নোট।

শুধু তাহমিনা নয়, তার মতো ২৫৬ জন শিশু ও ২৬টি নিম্ন আয়ের পরিবারের ঈদ আনন্দকে রাঙিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ভৈরব বন্ধুসভা। বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের আহ্বানে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন ভৈরব পৌর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে এবং বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই উপহারসামগ্রী ও নগদ অর্থসহায়তা বিতরণ করেন বন্ধুরা।

পছন্দের লাল জামা নিতে পেরে খুশিতে টলমল চোখে চার বছরের ফাইজা
ছবি: হান্নান হিমু

আয়োজনটিতে শিশুদের রঙিন জামার পাশাপাশি বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে ঈদ সালামি। ভৈরব বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসানের সহযোগিতায় এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ভৈরব শাখার পক্ষ থেকে নতুন ২০ টাকার নোটের ব্যবস্থা করা হয়। নতুন জামার সঙ্গে চকচকে নোট পেয়ে ৪ বছরের ফাইজার কিংবা ৯ বছরের রমজানদের চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস।

এক শিশুর মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘জিনিসপত্রের যে দাম, ডাল-চাল কেনার পর ছেলেরে কাপড় দেওয়ার সামর্থ্য থাকে না। দুই বছর ধইরা এখান থেইকা কাপড় পাইতাছি। অনেক খুশি আমরা।’

তালিকায় নাম না থাকলেও নতুন জামার জন্য কান্নাকাটি করা শিশু রবিউলকেও নিরাশ করেননি বন্ধুরা। তাৎক্ষণিক তার জন্যও জামা ও সালামির ব্যবস্থা করা হয়।

জামা নিতে এসে উপরি পাওনা হিসেবে ঈদ সালামি হাতে পাওয়া
ছবি: প্রিয়াংকা

আয়োজনের আহ্বায়ক মাজহারুল ইফতি ও সদস্যসচিব আফিফুল ইসলাম জানান, রমজানের শুরু থেকেই অর্থ সংগ্রহ, জামার মাপ নেওয়া, বাজার করা এবং বয়স অনুযায়ী প্যাকেজিংয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন বন্ধুরা।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোশাররফ রাব্বি বলেন, ‘রঙিন জামার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো বরাবরই আনন্দের। তাই ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, পুরোটা সময়জুড়েই এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকি।’

কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়াংকা বলেন, ‘আয়োজনটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা শুরু হয় বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বছর থেকেই। সেই থেকেই এখন পর্যন্ত প্রতিবছর আয়োজনটির সঙ্গে জুড়ে থাকি। রঙিন জামা পেয়ে ফুলের মতো শিশুদের হাসিতে তৃপ্তি পাই। রাত জাগা পরিশ্রম ভুলে যাই নিমেষেই।’

বাড়ি বাড়ি গিয়ে জামা পৌঁছে দেওয়ার মুহূর্ত
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধু হাসিবুল পড়াশোনার জন্য ভৈরবের বাইরে থাকলেও শুধু এই আয়োজনে অংশ নিতে আগের দিন শহরে ছুটে এসেছেন।

সভাপতি জান্নাতুল মিশু ও সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস বলেন, ‘অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে যারা অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা সুমন মোল্লা, জাহিদুল হক, লুবনা হক, নূর-ই লাইলা, সাবেক সভাপতি রাকিব হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান দীপ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির সভাপতি জান্নাতুল মিশু, সহসভাপতি আফিসা আলী, সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস, পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মহিমা মেধা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোশারফ রাব্বি, অর্থ সম্পাদক মাজহারুল ইফতি, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক সানজিদা ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আফিফুল ইসলাম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপী বেগম, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ভুবন আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক স্নেহা আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়াংকা, বন্ধু মাহমুদা তমা, হাসিবুল, হান্নান হিমু, হাবিবুল্লাহ, ইফরান সামির, তুহিন, ইমরান, জুঁই, আরবী, আলভী, আরাফাতসহ অনেকে।

অর্থ সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা