নতুন জামা পেয়ে খুশি ১২ বছর বয়সী কুলসুম আক্তার উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, ‘বেহেই (সবাই) জামা কিনছে। আমার তো বাপ নাই, কেডা দিব। আন্নেরা দিলাইন, এডাই বড় ঈদ, এডাই আনন্দ।’
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ বন্ধুসভার বন্ধুরা ৬৭ শিশুকে ঈদের নতুন পাঞ্জাবি ও ফ্রক (জামা) উপহার এবং ১৪টি অসচ্ছল পরিবারকে ঈদসামগ্রী প্রদান করেছেন। ১৩ মার্চ দুপুরে নগরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এগুলো বিতরণ করা হয়।
ছেলে বাচ্চাদের জন্য রঙিন পাঞ্জাবি ও মেয়েদের জন্য ফ্রক ছিল। ঈদসামগ্রীর মধ্যে ছিল সেমাই, চিনি, দুধের প্যাকেট, তেল, লবণ, নুডলস, এলোকেসি, পেঁয়াজ ও আলু। ঈদসামগ্রী পেয়ে কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আঙ্গর ঈদ কোনো কালেই ছিল না। না বালা খাইতে পারি, না বালা কিছু পরতে। এইবার আপনেরা সেমাই, চিনি, তেল লবণ যাই কিছু দিছুইন; শোকর আলহামদুলিল্লাহ।’
তৃতীয় লিঙ্গের বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমাদের নিয়ে ভাবনের কেউ নাই। আমি অন্য আট–দশটার মতো না। আমার বাপমরা বোনটার ২টা পোলাপান আমিই পালি। যাই জুটাতে পারি তাই খাই। আপনেরা আমারে ঈদের যে উপহার দিছুইন, এটা আমার জন্য বাড়তি আনন্দ।’
১২ বছর বয়সী অনিকের মা কুলসুম বেগম বলেন, ‘আশপাশের বাড়িত সবাই পোলাপানরে ঈদের কাপড়চোপড় কিনে দিলেও আমি দিতাম পারি না। মাইনষের বাসায় কাম কইরা খাইয়া পোলাপানের কিনে দিতাম পারি না। বাজান আপনারা দিলাইন, আল্লাহ আপনাদের ভালা করুক।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা শিশুদের জন্য ক্ষুদ্র পরিসরে এ আয়োজন করেছি বন্ধুদের সঞ্চিত সহায়তায়। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন করার চেষ্টা করবে বন্ধুরা।’
বন্ধুসভার সহসভাপতি রাবিয়াতুল বুশরা বলেন, ‘ঈদের আসল আনন্দ সহমর্মিতা ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। আমাদের সমাজে অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রয়েছেন, যাঁদের ঈদের জামা কিনতে অনেক বেগ পেতে হয়। অনেকে জামা কিনেও দিতে পারেন না। এসব মানুষের পাশে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানো উচিত, যাতে ঈদে সবার মুখে হাসি ফোটে।’
উপদেষ্টা আলী ইউসুফ বলেন, ‘ঈদ হচ্ছে আনন্দ ভাগাভাগি করার উৎসব। প্রথম আলো বন্ধুসভার বন্ধুরা সব সময়ই এ আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিই। বিশ্বাস করি অবহেলিত শিশুদের আনন্দ মানেই আমাদের আনন্দ।’
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা তাহমিনা শেখ, সভাপতি মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মমিনুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াসিন আরিয়ান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুনমুন আহমেদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ফারদিন হাসান, বইমেলা সম্পাদক প্রিয়রঞ্জল পালসহ অন্য বন্ধুরা।
সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা