নজরুলের গান-কবিতা ও পাঠচক্রে ‘নজরুলে ফিরে দেখা’

বিদ্রোহের আগুনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ আবার একই সঙ্গে প্রেম ও মানবতার সুরে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করার অনন্য রূপকার ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর লেখায় যেমন ধ্বনিত হয়েছে সাম্য ও শোষণমুক্তির ডাক, তেমনি ফুটে উঠেছে চিরন্তন মানবিক প্রেম। কবির ৫০তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বহুমাত্রিক জীবন ও সাহিত্যকর্মকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে বিশেষ আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ‘নজরুলে ফিরে দেখা’ শিরোনামে সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে ছিল কবিতা-গানের ভিডিও পরিবেশনা ও বিশেষ পাঠচক্র।

আয়োজনের অংশ হিসেবে নজরুলের কালজয়ী গান ও কবিতা আবৃত্তির বিশেষ ভিডিও তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। ‘আমি চির-বিদ্রোহী বীর’ কিংবা ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’—কবির এমন সব দ্রোহ ও সাম্যের বার্তা নতুন করে তুলে ধরার প্রয়াস ছিল এই ডিজিটাল পরিবেশনায়। ডিজিটাল পরিবেশনার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাসনিম সুলতানা।

এরই ধারাবাহিকতায় ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ১০ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ পাঠচক্র। এতে আশীফ এন্তাজ রবির উপন্যাসধর্মী জীবনীগ্রন্থ ‘আমারে দেব না ভুলিতে’ নিয়ে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

আলোচনায় উঠে আসে তারাক্ষ্যাপা, নজর আলী ও দুখু মিয়া থেকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হয়ে ওঠার কঠিন জীবনসংগ্রাম। দারিদ্র্য, ভবঘুরে জীবন, প্রেম-বিরহ এবং জীবনের অন্তিম পর্বের নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে কবির রক্তমাংসের মানবিক সত্তাটিকে নতুন আলোয় তুলে ধরা হয়। নজরুলকে কেবল পাঠ্যবইয়ের ‘বিদ্রোহী কবি’ অভিধায় না দেখে তাঁর জীবনসংগ্রাম, প্রেম, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সামগ্রিক রূপের ভেতর দিয়ে বোঝার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান বলেন, ‘নজরুলকে শুধু প্রয়াণদিবসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাঁর দ্রোহ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাকে আমাদের প্রাত্যহিক চিন্তায় ধারণ করতে হবে। গান, কবিতার পরিবেশনা ও পাঠচক্রের সমন্বয়ে সাজানো এ আয়োজনের মূল লক্ষ্যই ছিল নজরুলের সৃষ্টির অন্তরালে থাকা মানুষটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা।’

মুক্ত আলোচনায় বন্ধুরা কবির সাহিত্য, সাম্যবাদী দর্শন ও সমাজভাবনা নিয়ে নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশ করেন। শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আর মানবিক মুক্তির যে দিশা নজরুল দেখিয়েছেন, তা সমকালের সংকট উত্তরণেও সমান পথপ্রদর্শক বলে উল্লেখ করেন উপস্থিত বক্তারা।

প্রচার সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা