শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেনা-পাওনা’ নিয়ে পাঠচক্র

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর মধ্যে ‘দেনা-পাওনা’ অন্যতম। ১৯২৩ সালে রচিত এই উপন্যাসে জমিদার প্রথার নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় রাজনীতির কূটকৌশল ও নারীর আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চমৎকারভাবে চিত্রিত হয়েছে। এটি শুধু একটি সামাজিক উপন্যাসই নয়; বরং একটি মানবিক উপন্যাস, যা তার চরিত্রগুলোর সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নকে অত্যন্ত সার্থকভাবে উপস্থাপন করে।

উপন্যাসটির মাধ্যমে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সমাজের অন্ধকার দিকগুলোকে উন্মোচন করেছেন। তাঁর এ রচনাটি বাংলা সাহিত্যের অনবদ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত। ১৬ জানুয়ারি ‘দেনা-পাওনা’ উপন্যাসটি নিয়ে পাঠের আসর করেছে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভা। ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়ে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রে বইটির প্রকাশকাল ও বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেন উপদেষ্টা ওয়াদিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র চণ্ডীগড় গ্রামের ভৈরবী ষোড়শী। যে কেবল গ্রাম্য দেবী মা চণ্ডীর নিবেদিত সেবিকা নন; বরং এক অদম্য সাহসী নারী। যিনি তাঁর বুদ্ধিমত্তা, সহানুভূতি ও দয়ালু দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গ্রামের মানুষদের আগলে রাখেন। কিন্তু গ্রামে যখন বীজগাঁর নিষ্ঠুর জমিদার জীবনানন্দ চৌধুরী পদার্পণ করেন, তখন এক অন্ধকারের আবির্ভাব ঘটে। তাঁর ক্ষমতার লোভ, নিষ্ঠুরতা ও বিকৃত মস্তিষ্ক গ্রামে এক শৃঙ্খলাহীন অরাজকতা সৃষ্টি করে, যা ষোড়শীর সৃষ্ট শান্তিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। শেষ মুহূর্তে জীবনানন্দ অনুতপ্ত হলে ষোড়শীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন এবং এত এত আঘাতের পরও তিনি তাঁকে ক্ষমা করে দেন। পরবর্তী সময়ে, ষোড়শী তাঁর পথ পরিবর্তন করে নিজের মানসিক শান্তির খোঁজে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান।’

পাঠচক্র শেষে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধু তারেক মিয়া বলেন, ষোড়শী চরিত্র দ্বারা এটা বোঝা যায় যে কীভাবে নিজের নীতিতে অটল থেকে দেখানো যায়, ক্ষমা করা মানে আত্মসম্মান ত্যাগ করা নয়; বরং এটি এক মহৎ শক্তির প্রকাশ, যা আত্মসম্মান বজায় রেখেও সম্ভব।

বন্ধু নাফিসা তাবাসসুম বলেন, জীবনানন্দের মাধ্যমে একটি সমাজের ক্ষমতার লোভ, অন্যায় ও কুসংস্কারের ভয়াবহ দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

পাঠের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু সোলেমান হোসেন, শাহরিয়ার আলম, মেহেদী তাপাদার, স্বরূপ চন্দ্র বিশ্বাস, সাদিউল আলম, রাইয়ান চৌধুরী, ইমাম হোসেন, সৈয়দ মাহাদী বখত, প্রমি দেবসহ অন্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভা