‘চোখের বালি’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯০১-০২ সালে ‘নবপর্যায় বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের বিষয় ‘সমাজ ও যুগযুগান্তরাগত সংস্কারের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের বিরোধ’। আখ্যানভাগ সংসারের সর্বময় কর্ত্রী মা, এক অনভিজ্ঞা বালিকাবধূ, এক বাল্যবিধবা ও তার প্রতি আকৃষ্ট দুই পুরুষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। ১৯০৪ সালে অমরেন্দ্রনাথ দত্ত এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন। ১৯৩৮ সালে অ্যাসোসিয়েট পিকচার্সের প্রযোজনায় ‘চোখের বালি’ অবলম্বনে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। ২০০৩ সালে বিশিষ্ট পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ এই উপন্যাস অবলম্বনে ‘চোখের বালি’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। ‘চোখের বালি’ ইংরেজি (দুবার), হিন্দি ও জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী এবং তিন ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক চারপাশে আবর্তিত হয়েছে। এটি বিনোদিনী, একজন অল্পবয়সী বিধবা এবং মহেন্দ্রের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অন্বেষণ করে: তার একজন পুরোনো প্রেমিক, মহেন্দ্রের স্ত্রী আশার সঙ্গে জটিল বন্ধুত্ব এবং মহেন্দ্রের শৈশবের সেরা বন্ধু বেহারীর সঙ্গে তার পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ অনুভূতি। উপন্যাসটি সেই যুগে নারী সাক্ষরতা, বাল্যবিবাহ, পরিবারের মধ্যে পিতৃতন্ত্র এবং বিধবাদের ভাগ্যের বিষয়গুলোও তুলে ধরে।
১৩ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি নিয়ে পাঠের আসর করে সিলেট বন্ধুসভা। প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়। পাঠচক্রে বইটির প্রকাশকাল, মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধু সমীর বৈষ্ণব। তিনি বলেন, ‘পুরো বইটিতে মানবমনের এমন সুচারু বিশ্লেষণ দেখে অভিভূত হয়েছি। আরও অবাক হয়েছি, এটা ভেবে যে মানুষ এত দিন “বিনোদিনী” চরিত্রটাকে খল চরিত্র বলছিল। উপন্যাসটি একটু অভিনিবেশ নিয়ে পড়লে দেখা যায়, মহেন্দ্র-আশার জীবনের দুঃখময় লজ্জাজনক অধ্যায়টির জন্য বিনোদিনীর ভূমিকা তত মুখ্য নয়। মহেন্দ্রের অনিয়ন্ত্রিত ভাবাবেগ ও আমিত্ববাদই বহুলাংশে দায়ী। বিনোদিনীর চিরকাল নিয়ম-নীতিকে তুচ্ছজ্ঞান করে চলা এই অন্য অনন্য রূপ আর বিহারীর সঙ্গে তার অসমাপ্ত প্রণয়েই যেন উপন্যাসটির সাহিত্য-রস সার্থক হয়েছে।’
বন্ধু ধৃতি বলেন, ‘সব মিলে জটিল এক উপন্যাস। চরিত্রগুলো বেশ জটিল। মনে মনে যে লড়াই, তা এত সুন্দর করে রবীন্দ্রনাথ তুলে ধরেছেন উপন্যাসে। তাই যতই প্রশংসা করি ততই কম মনে হয়।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফারহানা হক, ফয়সাল আহমেদ, সূবর্ণা দেবসহ অন্য বন্ধুরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা