জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ বই নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি এক পাঠচক্র করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। ২১ মে রাত ১০টায় গুগল মিট অ্যাপে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
শুরুতে পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা বইটির কয়েকটি লাইন পাঠ করেন। এরপর বইটির কাহিনি, চরিত্র, অনুভূতি ও লেখকের উপস্থাপনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে মূল চরিত্র হাসানের কথা। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের এক বেকার যুবক হাসান; তবে তাকে পুরোপুরি বেকার বললে ভুল হবে। সপ্তাহে একদিন তিনি হিশামুদ্দিন সাহেব নামের এক ধনী ব্যক্তির জীবনের গল্প লিখে দেওয়ার কাজ করেন। হাসানের পরিবার, সংসারের অভাব-অনটন, রীনা ভাবির আত্মত্যাগ, তিতলীর প্রতি তার ভালোবাসা আর মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন; সব মিলিয়ে উপন্যাসটি পাঠকের মনে দাগ কেটে যায়।
বন্ধু মুহাম্মদ তোহা বলেন, ‘এই উপন্যাসে এমন এক জীবনের গল্প বলা হয়েছে যেখানে স্বপ্ন আছে, কিন্তু সামর্থ্য নেই; ভালোবাসা আছে, কিন্তু প্রকাশ নেই। অনেক অনুভূতি মানুষ নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখে, বলতে পারে না, তবু সেই অনুভূতিগুলোই তার জীবনের সবচেয়ে সত্য অংশ হয়ে থাকে। হুমায়ূন আহমেদ খুব সাধারণ কিছু মুহূর্তকেও এমনভাবে তুলে ধরেন যে পাঠক নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান গল্পের ভেতর। হাসানের চরিত্রে একজন সংগ্রামী তরুণের স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্ব খুব গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।’
বন্ধু সালমান ফারসী আলোচনায় হুমায়ূন আহমেদের লেখার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের লেখার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, তাঁর গল্পে আলাদা করে নাটকীয়তা খুঁজতে হয় না; সাধারণ জীবনের ভেতরেই তিনি অসাধারণ অনুভূতির জন্ম দেন। পাঠক গল্প পড়তে পড়তেই কখন যেন চরিত্রগুলোর খুব কাছের মানুষ হয়ে ওঠে।’ তিনি বন্ধুদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, বই শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও কল্পনার জগৎকেও সমৃদ্ধ করে। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের আরও মানবিক ও সচেতন করে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতি মুসাভভির সাকির বলেন, ‘একটি বই নিয়ে একসঙ্গে আলোচনা করার সৌন্দর্যই আলাদা। একজন পাঠক বই থেকে যা অনুভব করে, অন্য একজনের অনুভূতির সঙ্গে তা মিলিয়ে গেলে নতুনভাবে বইটিকে আবিষ্কার করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, পাঠচক্র শুধু বই নিয়ে আলোচনা নয়; এটি ভাবনার আদান-প্রদান, সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা এবং সাহিত্যকে নিজেদের জীবনের আরও কাছে নিয়ে আসার একটি সুন্দর মাধ্যম।
পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অনীক ভূষণ সাহা, সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজ, বন্ধু তানজিল মাহমুদ, রাফিয়া ইসলাম, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, আবিদুর রহমান, মোহাম্মদ ফাইকুজ্জামান, সরকার পিয়াস, সপ্তদীপ বর্মণ, তানহা তাসনিম, কাফিল, নাফিস মাহামুদসহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা