ভৈরব বন্ধুসভার উদ্যোগে স্কুল পর্যায়ে আবারও শুরু হয়েছে মুদ্রিত বই পড়ার দলগত আসর পাঠচক্র। ১৬ জানুয়ারি বিকেলে প্রথম আসর বসে পৌর শহরের ব্লু বার্ড স্কুলে। প্রথম দিন পাঠচক্রের আলোচ্য ছিল কবি ও সাংবাদিক সাজ্জাদ শরিফের লেখা ‘ভালোবাসার তারুণ্য’ গ্রন্থ।
গ্রন্থটিতে দেশ-বিদেশের এমন কিছু তরুণের জীবন, চিন্তা ও অবদানের কথা উঠে এসেছে, যাঁরা সাহস, মেধা ও মানবিকতায় পৃথিবী বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আলোচনাজুড়ে ছিল তারুণ্যের শক্তি, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা। বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে থাকা এ গল্পগুলো আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, তারুণ্য মানেই সম্ভাবনা।
বন্ধুসভার বন্ধুরা ছাড়াও স্কুলটির অন্তত ৬০ শিক্ষার্থী পাঠচক্রে অংশ নেয়। শেষে মনোযোগী শ্রোতা যাচাইয়ে বইটির ওপর আলোচনা হওয়া বিষয় নিয়ে হয় লিখিত কুইজ প্রতিযোগিতা। অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ উত্তরদাতা ১৫ জনকে প্রথম আলোর ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’ উপহার দেওয়া হয়।
কুইজ বিজয়ী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহানা আফরোজ বলে, ‘লেখক সাজ্জাদ শরিফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তারুণ্য মানে নতুন সৃষ্টি। যতই বাধা থাক পথে, এ বয়স নতুন কিছু করে। কথাগুলো আমাকে আকর্ষণ করেছে। আমি তরুণ। সুতরাং নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পেলাম গ্রন্থ আলোচনা শুনে।’
মূল আলোচনায় অংশ নেন বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিফাত হোসেন। লেখক পরিচিতি আলোচনা করেন পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মহিমা মেধা। আলোচনার পর প্রদর্শন করা হয় সাজ্জাদ শরিফকে নিয়ে বিশেষ তথ্যচিত্র।
প্রথম আলো ভৈরবের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা বলেন, ‘এটি ভৈরব বন্ধুসভার ১৯৮তম পাঠের আসর। খেয়াল করছি, দিন দিন মুদ্রিত বই পড়ার প্রতি তরুণদের আগ্রহ কমছে। অথচ মুদ্রিত বই না পড়লে মনের বিকাশ ঘটে না। মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুদ্রিত বই পড়ার আগ্রহ জাগাতে ভৈরব বন্ধুসভা প্রতিবছর স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পাঠচক্রের আয়োজন করে আসছে। এবারের এই কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২টি বই নিয়ে বসানো হবে পাঠের আসর।
পাঠচক্র মূল্যায়ন আলোচনায় অংশ নেন ব্লু বার্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদা বিনতে আমিন, ভৈরব বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি নাহিদ হোসাইন, প্রিয়াংকা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আনাস খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা