২০–২৫ বছর ধরে লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন মাঝের চরে ৪০০ পরিবার বাস করছে। চরের চারপাশে তিস্তা নদী। চরের অধিকাংশ বাড়ি পড়েছে লালমনিরহাটে। একাংশ পড়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার সঙ্গে। বিদ্যালয় না থাকায় এই চরের শিশুরা দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষাবঞ্চিত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার থেকে পিছিয়ে পড়া মাঝের চরের ২৫০ শীতার্ত নারী–পুরুষকে কম্বল উপহার দিয়েছে রংপুর বন্ধুসভা।
১৫ জানুয়ারি দুপুরে এগুলো বিতরণ করেন বন্ধুরা। আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির সৌজন্যে কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে প্রথম আলো ট্রাস্ট।
কম্বল পেয়ে মাঝের চরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হামার চরোত খুব জার (শীত)। বাতাস খালি হিম হিম করে ঢোকে আর বাইর হয়। কাইও একনা কম্বলও দেয় নাই। প্রথম আলো কম্বলকোনা দিল। এই জারত কম্বল পায়া ভালো হইল। গায় দিয়া থাকপার পামো।’
মাঝের চরটির ভৌগোলিক অবস্থান লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় লালমনিরহাটের সঙ্গে এই চরের মানুষের চলাফেরা কম। তাঁদের যোগাযোগ রংপুরের হারাগাছের মানুষের সঙ্গে বেশি।
প্রথম আলোর ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি ভালো কাজের অংশ হিসেবে গত বছরের ২৪ অক্টোবর চরটিতে আলোর পাঠশালা স্কুল চালু করে রংপুর বন্ধুসভা। স্থানীয় বাসিন্দা ও আলোর পাঠশালার শিক্ষক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এই চরে কেউ কখনো ত্রাণ দিতে আসে না। রংপুর বন্ধুসভার সদস্যরা এই অবহেলিত এলাকায় খোঁজ নিয়ে এখানকার মানুষের সুখে–দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। শীতার্তদের শীতবস্ত্র দিচ্ছেন, শিশুদের পড়াচ্ছেন। চরের মানুষ প্রথম আলো ও বন্ধুসভার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক ধ্রুব সাদিক, প্রথম আলো রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান, আলোকচিত্রী মঈনুল ইসলাম, রংপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দা ইফাত সামান্তা, দপ্তর সম্পাদক তাসফিয়াহ্ খন্দকার ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাদিয়া আরফিন।
শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন
শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭২০০১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।
সাধারণ সম্পাদক, রংপুর বন্ধুসভা