রবীন্দ্রনাথ স্মরণে সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর
২২ শ্রাবণ ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণদিবস। দিবসটি স্মরণে সিলেট বন্ধুসভা আয়োজন করে এক বিশেষ পাঠচক্র ও আলোচনা অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করা হয়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ২২ শ্রাবণ (৭ আগস্ট) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি সংগীত, দর্শন ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সৃষ্টিকর্ম প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞান, মানবিকতা ও সৌন্দর্যবোধের পথে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
পাঠচক্রে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম, তাঁর চিন্তা ও মানবতাবাদী দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও সাহিত্যকর্ম পাঠের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির গভীরতা ও বহুমাত্রিকতা অনুধাবনের চেষ্টা করেন। পাঠচক্রে উঠে আসে রবীন্দ্রসাহিত্যে মানবপ্রেম, প্রকৃতি, স্বাধীনতা, জীবনবোধ ও মানবিকতার নানা দিক।
কবিগুরুকে স্মরণ করে বন্ধু প্রাণেশ দাশ রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার মাথা নত করে দাও হে’ পরিবেশন করেন। বন্ধু জামিউল হাসান আবৃত্তি করেন কালজয়ী কবিতা ‘সোনার তরী’।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে বন্ধু আজিজুল হাকিম বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক কালজয়ী নাম। সর্বক্ষেত্রেই তাঁর অবদান অসাধারণ।
বন্ধু সাজন বিশ্বাস বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রাণের স্পন্দন। তিনি আছেন আমাদের মনপ্রাণে। তাঁর লেখা ও গান আমাদের জীবনের নানা অনুভূতি ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণের আট দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর প্রভাব অমলিন। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী দর্শন আজও নতুন প্রজন্মকে ভাবতে, প্রশ্ন করতে এবং মানবিক সমাজ গড়ার অনুপ্রেরণা দেয়।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু সৌমেন রায়, ফয়সাল আহমেদ, কৃত্য ছাত্রী, আজিজুর হাকিম, ঐশ্বর্য রায়, মেহেদী হাসানসহ অনেকে।