বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। ‘পথের পাঁচালী’র অপুর পরবর্তী জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস ‘অপরাজিত’। এটি নিয়ে ২৯ জানুয়ারি পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। মুহিবুর রহমান একাডেমিতে পাঠচক্রটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘অপরাজিত’ নিশ্চিন্দপুরের অপুর পরিণত বয়সের স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বের গল্প। নিশ্চিন্দপুর থেকে কাশী আর কাশী থেকে মনসাপোতা এভাবেই জায়গা বদলায়, সময় গড়ায়; কিন্তু সর্বজয়ার প্রতি ভাগ্যদেবতার প্রসন্নতা আসেনি। মনসাপোতা থেকে দুই ক্রোশ দূরের স্কুল থেকে বৃত্তি পেয়ে দেওয়ানপুর মহকুমার বোডিংয়ে ভর্তি হয় অপু। সেখানে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হয় সে। কলকাতায় পৌঁছে অপুর জীবনের দিগন্ত আরও বিস্তৃত হয়। ক্ষুধা, দারিদ্রতা তখন জীবনকে নতুন করে উপলব্ধি করায়।
আইএ পাস করে চাকরি করা অবস্থায় অপর্ণা তার জীবনে আসে। নিঃসঙ্গ জীবনে অপর্ণার প্রবেশ নতুন করে সংসারী করে তোলে অপুকে। কিন্তু কাজলকে জন্ম দিতে গিয়ে অপর্ণার অকস্মাৎ মৃত্যু তাকে জীবনের নতুন মোড়ে নিয়ে দাঁড় করায়। সে অপর্ণার মৃত্যুর জন্য কাজলকেই মনে মনে দায়ী করতে থাকে। এভাবে কাজলকে তার জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কাজল তার মামাবাড়িতেই বড় হতে থাকে। তার জীবনে বাবার অস্তিত্ব ছিল খুবই সামান্য। দিদার আদরেই বড় হচ্ছিল। কিন্তু দিদার মৃত্যু, মামিদের কটু কথা, দাদুর সারাক্ষণ শাসনের কারণে সে–ও খুব একটা মসৃণ জীবনের পথে ছিল না। শেষমেশ কাজলকে নিয়ে অপু নিশ্চিন্দপুরে পৌঁছায় এক স্থায়ী জীবনের আশায়। কিন্তু সেখানে রাণুদির কাছে কাজলের দায়িত্ব দিয়ে শুরু হয় অপুর নিরুদ্দেশ যাত্রা।
বই পর্যালোচনায় বন্ধু অম্লান রায় বলেন, ‘অপুর মতো আমাদের জীবনও যেন নদীর স্রোত, সময় গড়ানোর সঙ্গে চলতে চলতে নানা বাঁকে ধাক্কা খায়, কিন্তু চলার পথ কখনো সমুদ্র ছাড়া থামে না।’
বন্ধু প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘অপুর জীবনে কারও ভালোবাসাই বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। শৈশবে দিদির মৃত্যু, কৈশোরে বাবা আর দাম্পত্যের শুরুতেই অপর্ণা। প্রতিটি মৃত্যুই যেন অপুর জীবনকে উল্টে–পাল্টে দেয়।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, অনুপমা দাস, মাজেদুল ইসলাম, আইনুল হক, কৃত্ত ছত্রী, আরাফ, সৌম্য মণ্ডল, সাজন বিশ্বাস, প্রাণেশ দাস, শুভ তালুকদার, সমরজিত হালদার, রেজাউল ইমনসহ অন্যরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা