নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠচক্রে জলধর সেনের ‘অপমান’
বইয়ের পাতার সুবাস আর বিকেলের ম্লান আলোর মধ্যে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী গল্প। গত ১৭ জুলাই, শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক জলধর সেনের ‘অপমান’ ছোটগল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ভাবগম্ভীর ও নান্দনিক পাঠের আসর। সঞ্চালনায় ছিলেন নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক শান্ত চন্দ্র দে। পরিচয় পর্বের পর শুরু হয় মূল আলোচনা।
জলধর সেনের ‘অপমান’ গল্পটির মূল সুরই হলো মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ এবং অপমানের গভীরে লুকিয়ে থাকা গভীর ক্ষত। গল্পের মূল চরিত্রে থাকা এক দরিদ্র অথচ স্বাভিমানী মানুষ যখন ধনাঢ্য বা প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চরম অবহেলা ও অপমানের শিকার হন, তখন তাঁর ভেতরের সুপ্ত আত্মবোধ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সাময়িক কোনো করুণা বা অর্থের চেয়ে যে মানুষের সম্মান অনেক বড়, গল্পের নায়ক তাঁর নীরব প্রস্থান ও প্রতিবাদের মাধ্যমে সেটাই প্রমাণ করেছেন।
অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, সমাজে বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার বৈষম্য এবং ধনী শ্রেণির অহংবোধ কীভাবে একজন সাধারণ মানুষকে সামাজিকভাবে তুচ্ছ প্রতিপন্ন করে, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে আঁকা হয়েছে এ গল্পে। তবে সে অপমানের আঘাতকে মূল চরিত্রটি ভেঙে পড়ার মাধ্যম না বানিয়ে নিজের আত্মসম্মান রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
সহসভাপতি শিমুল হোসেন বলেন, সমাজে বিত্তবানদের অহংকার ও সাধারণ মানুষের বৈষম্যের ছবিই কেবল এ গল্পে আঁকা হয়নি; বরং দেখানো হয়েছে অরুণের অপমানকে সুষমা কীভাবে নিজের ও পরিবারের অপমান হিসেবে ধারণ করে স্বামীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। অরুণ কুমারের স্ত্রীর এ আত্মসম্মানবোধ এবং স্বামীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও সম্মান বাইরের আঘাতকে পুরোপুরি ব্যর্থ করে দিয়েছে।
কার্যনির্বাহী সদস্য রুমাইয়া সুলতানা বলেন, বাইরের ধনীদের অপমান মানুষকে সাময়িকভাবে ব্যথিত করতে পারে, কিন্তু ঘরে অরুণ কুমারের স্ত্রীর মতো আপনজনের ভালোবাসা ও সম্মান থাকলে কোনো অপমানই মানুষকে ভাঙতে পারে না।
পাঠের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বইমেলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক নাফিস আহমেদ, বন্ধু পিয়ারুল ইসলামসহ অনেকে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা