রাস্তার দুই পাশে যখন সারিবদ্ধ গাছ থাকে, কত–না দৃষ্টিনন্দন লাগে। অবসন্ন বিকেলে ক্লান্ত পথিকও চায় এমন দৃশ্যপটে বিশুদ্ধ নিশ্বাস নিতে; যেখানে মুক্ত পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর সুশীতল বাতায়নের দোলে বৃক্ষের শাখা দোল খাবে। কিন্তু এমন সব সুন্দর মুহূর্ত প্রতিনিয়ত দুর্লভ হতে চলেছে। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলছি আমরা। অসময়ে ঋতুর আগমন, বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিলুপ্তি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির শঙ্কা ইতিমধ্যে কিছুটা টনক নড়িয়েছে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।
‘আমার মাটি আমার দায়, গাছ রোপণে বাঁচা যায়’ প্রতিপাদ্যে ব্র্যাক মাইক্রোফিন্যান্সের সহযোগিতায় চার ধাপে বিভিন্ন প্রজাতির ২ হাজার ২২০টি চারাগাছ রোপণ ও বিতরণ করেছে চট্টগ্রামের পটিয়া বন্ধুসভা।
প্রথম ধাপে ২১ আগস্ট দিনব্যাপী উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ২৫০টি চারাগাছ বিতরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়, পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, খলিলুর রহমান মহিলা কলেজ, ছালেহ নূর ডিগ্রি কলেজ, ইউনিয়ন কৃষি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শাহ আশরাফ একাডেমি, আল্লাইওখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইফুলা কবির কারিগরি স্কুল, শেয়ানপাড়া হাজী আবদুল খালেক মাদ্রাসা, গাউছিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, মির্জা আলী লেদু শাহ্ মাদ্রাসা, নলিনীকান্ত মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট, ছনহরা ষোড়শীবালা উচ্চবিদ্যালয়, সিনার্জি একাডেমি, শ্রীমাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও করল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।
দ্বিতীয় পর্বে ২৩ আগস্ট কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে চারাগাছ রোপণ করেন বন্ধুরা। এ সময় শিক্ষকেরা বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা থেকে আমরা গাছ পেয়ে খুবই উপকৃত হয়েছি। এসব মূল্যবান বৃক্ষ আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠ ও খালি জায়গা সবুজায়নে মুখর হবে।’
তৃতীয় ধাপে ২৪ আগস্ট বিকেলে পটিয়া ক্লাবের মুক্তমঞ্চের সামনে উপজেলার ১৬টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে ৭৫০টি চারাগাছ বিতরণ করা হয়। এসব সংগঠনকে মসজিদ, মন্দির, রাস্তার ধারসহ যেসব জায়গায় গাছ নেই, সেখানে বৃক্ষরোপণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পটিয়া বন্ধুসভার বন্ধুদের সঙ্গে এসব সংগঠনের সদস্যরা গাছ রোপণের পাশাপাশি সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণেরও দায়িত্ব নেন।
চতুর্থ ধাপে ২৬ আগস্ট পটিয়া বাইপাসের বিপরীতে ভাটিখাইন ইউনিয়নের করল ঠেগরপুনি সড়কে করল স্কুলের সামনে প্রায় ৫০০ ফুট খালি রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করা হয়। নিজেদের উদ্যোগে নার্সারি থেকে ২২০টি আম, নিম, মেহগনি, জারুল, বেলজিয়াম, কদমগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংগ্রহ করেন পটিয়া বন্ধুসভার বন্ধুরা। পরে সেগুলো রোপণ করা হয়। এ কাজে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও এগিয়ে আসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, প্রথম আলো প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাক, বন্ধুসভার বন্ধু ও এলাকাবাসী।
রোপণ করা গাছের পরিচর্যার জন্য স্থানীয় লোকজন ১০ জনের একটি কমিটি গঠন করেন। প্রতিটি গাছের সঙ্গে খুঁটি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বন্ধুসভার বন্ধুদের সঙ্গে তাঁরাও গাছের যত্ন নেবেন।
সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা প্রান্ত বড়ুয়া, সভাপতি মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক আইরিন সুলতানা, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোকাররম আলী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শচীন দে, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. রাশেদুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সূফি মোহাম্মদ, প্রচার সম্পাদক জয় দে, বইমেলা সম্পাদক নাসরিন আকতার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুপ্রিয়া সরকার, কার্যকরী সদস্য তানাস চৌধুরী, তানিয়া আকতার, জেবু চৌধুরী, সাকিবুল হাসানসহ অন্য বন্ধুরা।
সাধারণ সম্পাদক, পটিয়া বন্ধুসভা