হেমিংওয়ের ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর

ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

মার্কিন কথাসাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বিখ্যাত নভেলা ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। ২৪ অক্টোবর প্রথম আলো ময়মনসিংহ অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়। পাঠচক্র শেষে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেন বন্ধুরা।

সাহিত্য কখনো কখনো জীবনের এমন কিছু সত্য তুলে ধরে, যা দীর্ঘ উপন্যাসের চেয়েও ছোট্ট একটি গল্পে অনেক গভীরভাবে প্রকাশিত হয়। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ তেমনই একটি অনন্য সাহিত্যকর্ম। সমুদ্রের বুকে এক বৃদ্ধ জেলের মাছ ধরার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে রচিত এই ঔপন্যাসিকাটি মূলত মানুষের সাহস, ধৈর্য, আত্মমর্যাদা ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবিচল থাকার এক অসাধারণ আখ্যান। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। এর জন্য লেখক ১৯৫৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নোবেল পুরস্কার অর্জনের ক্ষেত্রেও এই রচনার বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

সান্তিয়াগো, কিউবার এক বৃদ্ধ জেলে। টানা ৮৪ দিন সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েও কোনো মাছ পাননি। তাঁর এই দীর্ঘ ব্যর্থতার কারণে অনেকে তাঁকে দুর্ভাগা বলে মনে করে। তবু তিনি নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর বিশ্বাস হারাননি। একদিন তিনি একাই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। সেখানে তাঁর বড়শিতে ধরা পড়ে একটি বিশাল মার্লিন মাছ। শুরু হয় বৃদ্ধ জেলে ও শক্তিশালী মাছটির মধ্যে দীর্ঘ, ক্লান্তিকর এক লড়াই। শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষতবিক্ষত হাত এবং অসহনীয় ক্লান্তি সত্ত্বেও সান্তিয়াগো হাল ছাড়েন না। অবশেষে তিনি মাছটিকে পরাস্ত করতে সক্ষম হন।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরান বলেন, ‘জীবন আমাদের বিজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকেও ফিরিয়ে দিতে পারে, আজ জানলাম। তাঁর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়েও না পাওয়ার আক্ষেপ যেন সবচেয়ে বেদনাদায়ক। কিন্তু তাঁর সংগ্রাম সেখানেই শেষ হয় না। তীরে ফেরার পথে হাঙরগুলো মাছটির মাংস খেয়ে ফেলে। দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে সান্তিয়াগো তীরে ফিরে আসেন মাছটির বিশাল কঙ্কাল নিয়ে। বাহ্যিকভাবে তাঁর অর্জন শূন্য মনে হলেও সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং সংগ্রামী মানসিকতা তাঁকে প্রকৃত বিজয়ীর মর্যাদা দেয়।’

সভাপতি মেহেদি হাসানের সঞ্চালনায় পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদক মুস্তাফিজুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য খালিদ হাসান সম্রাট, অর্থ সম্পাদক অনিক চন্দ্র দাস, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক ফারদিন হাসান, বন্ধু সোজন চন্দ্র দাস, জুনায়েদ সালমান ও রুপা চন্দ্র।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা