আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশে টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব (বুটেক্সডিসি)। প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে ১৩ আগস্ট দিনব্যাপী রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে সহযোগিতা করে ব্র্যাক।
আমন্ত্রিত ঢাকার স্বনামধন্য মোট আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে সংসদীয় ধারায় অনুষ্ঠিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)। চূড়ান্ত পর্বে তারা বুটেক্সডিসির বিপক্ষে ৬-০ ব্যালটে পরাজিত হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের শহিদুল ইসলাম।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হয় চূড়ান্ত পর্বের বিতর্ক। এতে প্রস্তাব ছিল—‘এই সংসদ মনে করে, এই প্রজন্মের তরুণদের তাৎক্ষণিক প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা প্রত্যাশিত পরিবর্তনের পথকে কঠিন করছে।’
ছায়া সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান। বিতর্কের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনের সাবেক সভাপতি নূর ই আলম, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাবের সাবেক সভাপতি তৌহিদ হোসেন পাপনসহ দেশসেরা স্বনামধন্য বিচারকেরা।
প্রস্তাবের পক্ষে বুটেক্সডিসির বিতার্কিকেরা বলেন, বর্তমান প্রজম্মের অনেক তরুণ কোনো একটি বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি চর্চা বা সাধনা না করে অল্প সময়ে তড়িঘড়ি করে ফলাফল পেতে চায়। যার কারণে সমাজে প্রত্যাশিত পরিবর্তনের পথ সুগম হয় না। তরুণেরা গভীর গবেষণার পরিবর্তে ভাইরাল হওয়ার প্রতি বেশি মনোযোগী; এর ফলে সমাজের সমস্যাগুলোর কাঠামোগত সমাধান সম্ভব হয় না।
অপরদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ডিইউডিএসের বিতার্কিকেরা বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ‘হার্ডওয়ার্কে বিশ্বাস করে না, তারা বরং স্মার্ট ওয়ার্কে বিশ্বাসী’। এর ফলে অল্প পরিশ্রমে ফলাফল আসে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণেরা এখন সমাজের অনেক বড় বড় সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্য দলগুলো হলো জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব, গ্রিন ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব। সংসদীয় ধারার এই বিতর্কে প্রথম ধাপে আটটি দল থেকে চারটি দল পরবর্তী বিতর্কে উন্নীত হয়, তারপর বিজয়ী দুটি দল মুখোমুখি হয় চূড়ান্ত পর্বে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার অন্যান্য রাউন্ডে স্পিকার ও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিতার্কিক নাজমুল হুদা আজাদ, শেখ আরমান, নূর ই আলম, রোমান উদ্দিন, রাসিব নাহিদ, তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী, সাফফাত হোমায়রা, ইমরান ফাহিম ও হাসান মাহমুদ সম্রাট। আয়োজনের সমন্বয় করেন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের বিতর্ক ও অনুষ্ঠান সম্পাদক কামরুল ইসলাম।