‘জলপূত্র’ উপন্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার পাঠচক্র

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

সমুদ্রতীরবর্তী জেলেপল্লিতে জেলেদের জীবনযাত্রা পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাসের ‘জলপুত্র’ উপন্যাসে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার ‘জলদাস’ বা জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জিজ্ঞাসার এটি যেন এক জীবন্ত দলিল। ২০০৮ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করে। বইটি ২০১২ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১১ সালে প্রথম আলো বর্ষসেরা বই (সৃজনশীল শাখায়) হিসেবে পুরস্কার লাভ করে।

গত ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজন করে ‘হিরন্ময় কথকতা সিরিজ’ পাঠচক্রের ২৬তম আসর। চট্টগ্রাম বন্ধুসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্রে ‘জলপুত্র’ উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া।

রুমিলা বড়ুয়া বলেন, ‘জলপুত্র’ উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো বংশপরম্পরায় মাছ ধরাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া এক অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবন। সমুদ্র যাদের অন্নদাতা, আবার সমুদ্রই যাদের সব কেড়ে নেয়, সেই লোনাপানির মানুষের যাপিত জীবনের নিদারুণ বাস্তবতা এতে ফুটে উঠেছে।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘ভুবন’। তার বাবা রজনী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনের মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে এই সম্প্রদায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে শোষিত। একদিকে সমুদ্রের ভয়াল রূপ, অন্যদিকে মহাজন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ—এই দুই সাঁড়াশি অভিযানের চাপে পিষ্ট হওয়ার গল্পই যেন ‘জলপুত্র’। তা ছাড়া কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস নিজে এই সম্প্রদায়ের আলো–বাতাসে বড় হয়েছেন, যা তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে।

কুইজে বিজয়ীরা
ছবি: বন্ধুসভা

রুমিলা বড়ুয়া বলেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র উত্তরসূরি হিসেবে যেন ‘জলপুত্র’কে গণ্য করা হয়। তবে ‘জলপুত্র’ আধুনিক প্রেক্ষাপটে জেলেদের অধিকার ও আত্মপরিচয়ের লড়াইকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। গঙ্গাপদর চরিত্রটি যেন লেখক নিজে ধারণ করেছিলেন। গঙ্গাপদ চরিত্রটি কেবল একটি নাম নয়, বরং এটি পুরো জলদাস সম্প্রদায়ের পরিবর্তন ও দ্রোহের প্রতীক। ভুবনের ছেলে গঙ্গাপদ এই উপন্যাসের এমন এক চরিত্র, যে তার পূর্বপুরুষদের মতো শুধু ভাগ্যের হাতে নিজেকে ছেড়ে দেয়নি।

সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আমরা অসাধারণ একটি উপন্যাসের মাধ্যমে আমাদের সিরিজ পাঠচক্র শুরু করেছি। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বন্ধুরা যেন নিয়মিত বই পড়তে অভ্যস্ত হন, ভালো জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমাদের এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে। আশা করি ভবিষ্যতেও বন্ধুদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে।’

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ইব্রাহিম তানভীর, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ আর আছাদ, প্রচার সম্পাদক সাকিব জিশান, বইমেলা সম্পাদক সামিয়া সুলতানা, বন্ধু সাইনুর আক্তার, শরিফুল ইসলাম, আশরাফুর রহমান ও জান্নাতুল ফেরদৌস।

পাঠচক্র শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলেন সহসভাপতি ইব্রাহিম তানভীর, বন্ধু মারুফুল হক ও জান্নাতুল ফেরদৌস।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা