পৌষ শেষ হয়েছে। মাঘও যাই যাই করছে। এমন বিকেলে রকমারি সব পিঠাপুলির গন্ধে ম-ম করছিল ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সিরহাট এলাকার শিশুনিবাসের চারপাশ। এই উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি ছিল শিশুরা।
শীত মানেই সুস্বাদু সব পিঠার মৌসুম। এ সময়ে ঘরে ঘরে আয়োজন হলেও শিশুনিবাসের সদস্যরা পিঠার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়। এই শিশুদের মুখে পিঠা তুলে দিতে এ উৎসবের আয়োজন করেছে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা। ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বন্ধুসভার সদস্যরা নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে উপকরণ কেনার পর বাড়িতে ভাপা, দুধচিতই, পাকোয়ান, নুনিয়া, নারকেল, ফুলঝুরি, নকশি, বিবিখানা, দুধ সেমাই, পাটিসাপটা, গুড়গুড়িসহ নানা রকমের পিঠা তৈরি করে নিয়ে আসেন। পরে তা টেবিলে প্রদর্শন করেন। প্রদর্শন করা পিঠাগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তাঁরা। শিশুরা ঘুরে ঘুরে সেসব পিঠার সঙ্গে পরিচিত হয়। পাশাপাশি হাতের ইশারায় পছন্দের পিঠাটি দেখিয়ে দেয়। বন্ধুসভার সদস্যরা সেই পিঠা তার হাতে তুলে দেন। পছন্দের পিঠার স্বাদ পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুর দল।
পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন মুন্সিরহাট মহিলা সমিতি শিশুনিবাসের চেয়ারম্যান রহিমা চৌধুরী। এ সময় ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক নাসরিন জাহান, ঠাকুরগাঁও মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদুল রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবে শীতের ঐহিত্যবাহী বিবিখানা পিঠার সঙ্গে ১৩ রকমের পিঠা নিয়ে আসেন ফারহানা আক্তারের দল। এলাকার ঐতিহবাহী গুড়গুড়ি পিঠাসহ ১০ রকমের পিঠা নিয়ে আসেন হালিমা তুছ সাদিয়ার দল। রাবেয়া হাসির দল এনেছে দুধসেমাইসহ ১৫ রকমের পিঠা। ফুল দিয়ে সাজিয়ে ভাপা, নুনতা, পাটিসাপটাসহ নানা পিঠা নিয়ে মিথিলা আক্তার, সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য আসেন।
ঘুরে ঘুরে প্লেটে পিঠা তুলে নিচ্ছিল শিশুনিবাসের বাসিন্দা আঁখি আক্তার। সে বলে, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠান হয়। এমন অনুষ্ঠান এই প্রথম দেখলাম। আমি চার রকমের পিঠা খেলাম।’
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশুনিবাসের আরেক বাসিন্দা লিজা আক্তার বলে, ‘এখানে নিজের পছন্দের পিঠা তুলে নিয়ে খেতে পেরেছি। বিবিখানা পিঠা এই প্রথম খেলাম।’
পিঠা উৎসবে এসে নাসরিন জাহান বলেন, ‘আয়োজনটি ভিন্ন ধরনের। শিশুরা যখন স্টল ঘুরে ঘুরে নিজের হাতে পিঠাগুলো তুলে খাচ্ছিল, তখন তাদের চোখে-মুখে আনন্দ দেখেছি, যা ভুলবার নয়। বন্ধুসভার সদস্যদের এমন একটি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ।’
রহিমা চৌধুরী বলেন, ‘বন্ধুসভা সব সময় ব্যতিক্রম কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে পিঠা উৎসব বন্ধুসভার ভিন্নধর্মী আয়োজন। আমার প্রতিষ্ঠানে এই আয়োজন করায় সাধুবাদ জানাই।’
ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শীতের পিঠা আমাদের ঐতিহ্য। কিন্তু শিশুরা এসব পিঠার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়। এই শীতে তাদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য বন্ধুসভার পক্ষ থেকে এমন আয়োজন।’