নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস ‘হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। ৫ জুন বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সবাই জীবনে একবার হলেও হিমু হতে চায়। হিমুরা কিছু করে না, শুধু দেখে। হিমুরা খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে। হিমু ওরফে হিমালয়; তার বাবা চেয়েছিলেন তাকে মহাপুরুষ বানাতে। মহাপুরুষ হওয়ার বেশ কিছু নিয়মও বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। তাই বোধ হয় পাঁচটি নীল পদ্মই হিমুর হাতে রয়ে যায়।
বইটির অন্যতম চরিত্র আসাদুল্লাহ সাহেবের মতে, সৃষ্টিকর্তা সবাইকে পাঁচটি নীলপদ্ম দিয়ে পাঠান। নীলপদ্মগুলো প্রেমের প্রতীক। এই পাঁচটি নীলপদ্ম খরচ হয়ে গেলে কেউ আর কাউকে ভালোবাসতে পারে না। মহাপুরুষদের কখনো কাউকে নীলপদ্ম দিতে হয় না। তাই হিমুর কাছে রয়ে যায় পাঁচটি অপূর্ব সুন্দর নীলপদ্ম।
উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র মারিয়া জীবনের প্রথম নীলপদ্মটা দিয়েছিল হিমুকে। আরও আছে আসগর সাহেব, যার নৈতিক দায়বদ্ধতার কাছে শারীরিক অসুস্থতা তুচ্ছ। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হিমু হলেও প্রতিটি চরিত্রের রয়েছে নিজস্ব বর্তমান ও নিজস্ব জগৎ।
বন্ধু প্রাণেশ দাস বলেন, উপন্যাসের একপর্যায়ে হিমু সাধারণ মানুষ হতে চেয়েছিল। কিন্তু হিমুরা আলাদা। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই হিমুর ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকে। কিন্তু সাধারণ হয়ে ওঠার চাপে হিমু হয়ে ওঠা হয় না।
বন্ধু প্রত্যাশা তালুকদার বলেন, উপন্যাসটিতে প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত ও প্রাণবন্ত।
বন্ধু আজিজ বিন আহম্মদ উপন্যাসটির নামকরণের প্রসঙ্গে বলেন, মূলত আসাদুল্লাহ সাহেবের নীলপদ্ম তত্ত্বটাকে ঘিরেই গল্প আবর্তিত হয়েছে। আর উপন্যাসটির নামকরণের ভিত্তিও নীলপদ্ম।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, সমীর বৈষ্ণব, অনুপমা দাস, প্রণব চৌধুরী, আইনুল হক, মাহবুব হোসাইন, অম্লান রায়, অমিত দেবনাথ, আহসান উল্লাহ, কৃত্য ছত্রী, মিনথিয়া রহমান, অলখ সরকার, পারমিতা রায়সহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা