ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন কবি নজরুল

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সিলেট বন্ধুসভার আয়োজনছবি: বন্ধুসভা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সাহিত্য, আবৃত্তি, সংগীত ও ভাবনার এক প্রাণবন্ত আয়োজন করেছে সিলেট বন্ধুসভা। ২২ মে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়। নজরুলের সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের চেতনাকে ধারণ করে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বন্ধুসভার সদস্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বন্ধু অম্লান রায়। একই সঙ্গে তিনি প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে পুরো আয়োজন সঞ্চালনা করেন। অম্লান রায় বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারও কবি। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বানই ছিল তাঁর সাহিত্য ও দর্শনের মূল শক্তি।’

বন্ধু জামিউল হাসান আবৃত্তি করেন কবির কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’। তাঁর আবৃত্তিতে যেন উচ্চারিত হয় দ্রোহ, সাহস ও মুক্তির চেতনা।

সমাজে নারী-পুরুষ সমতা এবং নজরুলের মানবিক দর্শন নিয়ে বক্তব্য দেন বন্ধু প্রাণেশ দাস। তিনি কবির বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি—‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’—উদ্ধৃত করে সাম্যের সমাজ গঠনে নজরুলের ভাবনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নজরুলের সাহিত্য, চেতনা ও সময় নিয়ে সাধারণ সম্পাদক শেখ ফয়সাল আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সমাজে বাড়তে থাকা হিংসা, বিদ্বেষ ও বর্বরতার বিরুদ্ধে কাজী নজরুল ইসলামের মানবতা, সাম্য ও সম্প্রীতির দর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করতেই নজরুল তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে সাম্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন।’

অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে পরিবেশিত হয় কবির কালজয়ী সংগীত। নজরুলের সুর ও বাণীর মাধুর্যে পুরো আয়োজনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আবহ। দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে উদ্‌যাপন করেন কবির সাম্য, মানবতা ও সৌন্দর্যের চেতনা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সিলেট বন্ধুসভার আয়োজন।

অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে পাঠচক্র। পাঠচক্রে কবির সাম্যবাদী দর্শন, মানবমুক্তির আহ্বান এবং শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। তরুণদের মধ্যে নজরুলচর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতি ভাগ করে নেন।

কবির প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন বন্ধু প্রণব চৌধুরী। তাঁর শিল্পের নিখুঁত আঁচড়ে ফুটে ওঠে জাতীয় কবির দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, বিদ্রোহী চেতনা ও অনন্য অভিব্যক্তি, যা উপস্থিত সবার প্রশংসা অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, সুবর্ণা দেব, শ্রেয়ান ঘোষ, অনুপমা দাস, কৃত্য ছত্রী, সাজন বিশ্বাস, অমিত দেবনাথ, সুমন দাশ, সৌম্য মণ্ডল, মিনথিয়া রহমান, শুভ তালুকদার, পারমিতা রায়, আজিজুল হাকিম, সাফিউর রহমান ও অলখ সরকার।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা