জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ নিয়ে সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্র
জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে সিলেট বন্ধুসভা। ২৩ অক্টোবর বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘বনলতা সেন’ হলো রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ। ডিসেম্বর ১৯৪২ সালে (পৌষ ১৩৪৯ বঙ্গাব্দ) কবি বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা-ভবন’ থেকে এটি প্রথম পুস্তিকাকারে প্রকাশিত হয়। প্রথম সংস্করণে মাত্র ১২টি কবিতা স্থান পেয়েছিল। ১৯৫২ সালে (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ) বিখ্যাত সিগনেট প্রেস থেকে বইটির একটি বর্ধিত সংস্করণ বের হয়। এই সংস্করণে কবিতার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়।
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯–১৯৫৪) ছিলেন রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও আধুনিক কবি। তাঁকে ‘রূপসী বাংলার কবি’ বা ‘তিমির হননের কবি’ বলা হয়। রবীন্দ্রবলয় থেকে বের হয়ে বাংলা কবিতায় সম্পূর্ণ নতুন এক আধুনিক ভাষা ও সুর তৈরি করেছিলেন তিনি। মূলত ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। বরিশাল বিএম কলেজ, কলকাতার সিটি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন। তবে তাঁর কর্মজীবন ছিল বেশ অস্থির এবং চরম আর্থিক সংকটে ভরা। গত ১০০ বছরে মাত্র একজন মানুষ ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যান। ভাগ্যের কী পরিহাস, ওই একটি মানুষ ছিলেন জীবনানন্দ দাশ।
বন্ধু মিনথিয়া কবির লেখা বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’ আবৃত্তি করেন।
বন্ধু শেখ ফয়সাল আহমেদ কবিতাটি সম্পর্কে বলেন, ‘কবিতাটি সমাজে প্রেমের কবিতা হিসেবে পরিচিত হলেও এই কবিতার আলাদা একটি দিক রয়েছে। কবি আসলে এই কবিতার মাধ্যমে একটি মানুষের জীবন আর পথচলাকে বুঝিয়েছেন। আর বনলতা সেন ছিল এই জীবনের ক্ষুদ্র সময়ের সুখের উপমা, যা কখনোই স্থায়ী হয়নি।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, সমরজিৎ হালদার, গায়ত্রী বর্মণ, অম্লান রায়, শুভ তালুকদার, আরাফসহ অন্য বন্ধুরা।
বন্ধু, সিলেট বন্ধুসভা