তরুণদের মন, অনুভূতি ও জীবনের কথোপকথন

সিলেট বন্ধুসভার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারছবি: বন্ধুসভা

কাজের চাপ, একাডেমিক টেনশন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা মানুষের মনে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে আমরা ভার্চ্যুয়ালি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বাস্তব জীবনে অনেকেই একা হয়ে পড়ছি। এই একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক অসুস্থতাও স্বাভাবিক। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যাগুলোকে ঠিকমতো গুরুত্ব দিতে চান না বা এটিকে দুর্বলতা মনে করেন। আবার অনেকে সমাজের ভয়ে বা লজ্জায় সময়মতো বিশেষজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট বা সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেন না।

মানসিক সুস্থতায় এসব মানুষের প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তাঁরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন, নিজের কথা বলতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাবেন। বিষয়টি বিবেচনা করে বন্ধুদের জন্য বিশেষ সেমিনার আয়োজন করেছে সিলেট বন্ধুসভা। ‘ভালো আছেন তো? তরুণদের মন, অনুভূতি ও জীবনের কথোপকথন’ শিরোনামে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভাকক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট বন্ধুসভার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনার।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা সিটি হাসপাতাল লিমিটেডের সাইকোথেরাপিস্ট ও কনসালট্যান্ট এবং বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা মুহসিনা বুশরা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায় এবং প্রয়োজনের সময়ে কী করা যেতে পারে, সে বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দেন।

অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দৈনন্দিন জীবন, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও একাকিত্বসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা খোলামেলাভাবে বলেন। অতিরিক্ত চিন্তা, আবেগ প্রকাশে অসুবিধা, অতীতের মানসিক আঘাত, মতের অমিল থেকে রাগ, আত্মহত্যার চিন্তাসহ জীবনের নানা জটিলতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন করেন।

মাহমুদা মুহসিনা বুশরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত সংকোচ কমিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে অবহেলা না করে পরিবার, বন্ধু বা পেশাদার কারও কাছে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। অতিরিক্ত চিন্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ব্যর্থতার ভয়ে অতিরিক্ত চিন্তার সৃষ্টি হয়। সমস্যাগুলো এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধান করতে হবে। চিন্তা, রাগ, দুঃখ, হতাশা, অভিমান এগুলো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এগুলোকে মেনে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখতে হবে।’

সিলেট বন্ধুসভার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনার।

এ ছাড়া অনুভূতি দীর্ঘদিন নিজের মধ্যে না রেখে নিরাপদ পরিবেশে বা বিশ্বাসযোগ্য কারও কাছে প্রকাশ করতে বলেন মাহমুদা মুহসিনা বুশরা। বিশেষ করে হাসিমুখের আড়ালে কষ্ট না লুকিয়ে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আবার কারও মতামত পছন্দ না হলে তাৎক্ষণিকভাবে রেগে না গিয়ে নিজের আবেগকে বোঝার উপদেশ দেন।

অতীতের কোনো কষ্টকর অভিজ্ঞতা বর্তমানে প্রভাব ফেললে তাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন মাহমুদা মুহসিনা বুশরা। তিনি বলেন, ‘একে অপরের কথা শুনতে হবে, নিজেকে গুরুত্ব দিতে হবে, সংকটের সময়ে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, সমরজিৎ হালদার, গায়ত্রী বর্মন, মিন্থিয়া রহমান, আইনুল হক, মাহবুব হোসাইন, সুমন দাস, য়ূম্নাম লৈরিক, বৃষ্টি দে, অলখ সরকারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বন্ধু, সিলেট বন্ধুসভা