‘এবার নতুন জামা পেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে’

হোপ ফাউন্ডেশন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ঈদ উপহারছবি: বন্ধুসভা

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। কিন্তু সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে এই আনন্দ অনেক সময় মরীচিকা হয়ে থাকে। সেইসব শিশুর মুখে হাসির ঝিলিক ফোটানো আর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রতিবছরের মতো এবারও ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচি করেছে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। তবে এবারের আয়োজনে ছিল ভিন্নতা ও নতুনত্বের ছোঁয়া।

চট্টগ্রামের পলিটেকনিক্যাল হল্ট এলাকার রেললাইনের ধার ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তির শিশুদের নিয়ে পরিচালিত হয় ‘হোপ ফাউন্ডেশন স্কুল’। এই স্কুলের শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার ১১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মধ্যে নতুন পোশাক ও নাশতা বিতরণ করেন বন্ধুরা।

হোপ ফাউন্ডেশন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ঈদ উপহার
ছবি: বন্ধুসভা

উদ্বোধনী পর্বে শিশুদের সঙ্গে আড্ডায় মাতেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা সঞ্জয় বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘ঈদ মানে সবার জন্য আনন্দ। আজ তোমাদের সঙ্গে এই সময়টুকু কাটাতে পারাটাই আমার ঈদের বড় প্রাপ্তি। তবে তোমাদের স্কুল ও ঘর যেহেতু রেললাইনের পাশে, তাই তোমরা সাবধানে থাকবে। খেলার ছলে যেন কখনোই রেললাইনের ওপর চলে না যাও। কানে হেডফোন দিয়ে হাঁটা বা বসা থেকে বিরত থাকবে। নিজে সচেতন হবে, অন্যকেও সচেতন করবে।’

হোপ ফাউন্ডেশন স্কুলের পরিচালক জুয়েল বন্ধুসভার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি শিশুদের জীবন একটু গুছিয়ে দিতে। চট্টগ্রাম বন্ধুসভা সেই চেষ্টায় পূর্ণতা দিয়েছে। গতবারের মতো এবারও তারা শিশুদের এই শূন্যস্থান পূরণ করেছে।’

নতুন জামা হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিশু রাবেয়া জানায়, ‘আপা বলছিল আপনারা নতুন জামা নিয়া আসবেন, তাই আমি অপেক্ষায় ছিলাম। জামা পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।’

হোপ ফাউন্ডেশন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ঈদ উপহার
ছবি: বন্ধুসভা

আরেক শিশু ফাহিমের চোখেমুখে ছিল বিস্ময়। সে বলে, ‘গত বছর নতুন জামা কিনতে পারি নাই, কেউ দেয়ও নাই। এবার নতুন জামা পেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে।’

বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শিশুদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, আনন্দ কীভাবে বাড়ে? শিশুদের ভাবুক করে দিয়ে নিজেই উত্তর দিলেন তিনি—‘আনন্দের ভাগ অন্যকে দিলে তা দ্বিগুণ হয়। তোমাদের যে নাশতা দেওয়া হয়েছে, তা নিজেরা একা না খেয়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ো।’

শিশুদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মা–বাবার মোবাইল নম্বর মুখস্থ রাখার পরামর্শ দেন সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান।

শিশুদের হাতে উপহার তুলে দেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া
ছবি: বন্ধুসভা

শিশুরাও তাদের গত বছরের ঈদের গল্প, সালামি পাওয়ার স্মৃতি অতিথিদের সঙ্গে শেয়ার করে। সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান বলেন, ‘এই শিশুরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও প্রাণবন্ত। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই পরবর্তী প্রজন্মই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’

অন্য সংগঠনের পাশে বন্ধুসভা
ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এবার বন্ধুসভা অন্য সংগঠনকেও তাদের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে। ‘স্বপ্নবাগিচা’ নামক একটি সংগঠনের ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচিতে পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। সেখানে ২০০ শিশুর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্বপ্নবাগিচার সংগঠক উর্মি বড়ুয়া এই সহযোগিতার জন্য বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান।

২০০ শিশুর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
ছবি: বন্ধুসভা

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে উপহার তুলে দেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া। তিনি শিশুদের আগামীর স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আজ তোমরা প্রত্যেকে একটি করে স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি যাবে। পড়াশোনা আর সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে লালন করবে। একদিন তোমরাই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে এই মঞ্চ অলঙ্কৃত করবে।’

পুরো আয়োজনটির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইকবাল হোসেন, নুরুজ্জামান খান, তোফাজ্জল হোসেন ও আফিফ ইব্রাহিম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপদেষ্টা শিহাব জিশান, সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা