‘নীলদর্পণ’ মনে করায়, স্বাধীনতা কিংবা অধিকার সহজে আসেনি

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রংপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার কৃষক বিদ্রোহ ও নীলকর সাহেবদের অমানবিক অত্যাচারের এক জীবন্ত দলিল দীনবন্ধু মিত্রের কালজয়ী নাটক ‘নীলদর্পণ’। নীলচাষিদের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও শোষণের করুণ আখ্যান নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে রংপুর বন্ধুসভা। ১১ এপ্রিল বিকেলে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রে ‘নীলদর্পণ’ বইটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাহিত্যমূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মূল আলোচনার আগে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা হয়। কুইজের বিষয়বস্তু ছিল, নীল বিদ্রোহ এবং দীনবন্ধু মিত্রের সাহিত্যকর্ম ‘নীলদর্পণ’। তরুণ পাঠকদের মধ্যে ইতিহাসসচেতনতা তৈরি করতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন।

উপন্যাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে আলোচক নুসরাত জামান বলেন, ১৮৬০ সালে প্রকাশিত ‘নীলদর্পণ’ কেবল একটি নাটক নয়, এটি ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলার উর্বর জমিতে নীলকরেরা কৃষকদের জোরপূর্বক নীল চাষে বাধ্য করতেন। বিভিন্নভাবে কৃষকদের ঋণের জালে আটকে ফেলে তাঁদের ওপর চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন। ‘নীলদর্পণ’ নাটকে গোলক বসু ও নবীন মাধবের পরিবারের ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে সে সময়ের সাধারণ মানুষের আর্তনাদ ফুটে উঠেছে। নাটকটি ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর সারা বিশ্বে নীলকরদের নৃশংসতার কথা ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত নীল কমিশন গঠন এবং নীল চাষ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বন্ধুসভার সভাপতি সোহেলী চৌধুরী বলেন, ‘“নীলদর্পণ” আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কিংবা অধিকার কোনোটিই এমনি এমনি আসেনি। তোরাপের মতো সাধারণ কৃষক চরিত্রগুলো যে সাহস দেখিয়েছে, তা আজও আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।’

পাঠচক্র শেষে রংপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবু আজাদ রহমান বলেন, ‘দীনবন্ধু মিত্র সমাজবাস্তবতাকে যেভাবে এ নাটকে তুলে ধরেছেন, তা বিশ্বসাহিত্যে বিরল। বইটিকে সর্বাধিক পঠিত বই “আঙ্কল টমস্ কেবিন”-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়। “আঙ্কেল টমস্ কেবিন” সে সময় আমেরিকায় সিভিল ওয়ার ঘটিয়েছিল, দিয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গদের মুক্তি। তেমনি “নীলদর্পণ” নীল বিদ্রোহের অন্যতম উপজীব্য। সে সময় অসংখ্যবার মঞ্চায়িত হয়েছে “নীলদর্পণ”। নীল চাষের সে ইতিহাস মুছে গেলেও শোষণের ধরন পাল্টেছেমাত্র। তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।’

পাঠচক্রের শেষ পর্যায়ে কুইজে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মায়িশা মুনাওয়ারা, দ্বিতীয় হয়েছেন রোকসানা পারভীন এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছেন নুসরাত জামান ও মুমতাহিনা মারিয়া। বিজয়ীদের পরবর্তী পাঠচক্রে বই উপহার দেওয়া হবে।

সাধারণ সম্পাদক, রংপুর বন্ধুসভা